skip to Main Content

লেবেল অ্যালার্ট I অনুমেঘা

শুরুটা নিত্যদিনের পোশাকে। ফ্যাব্রিক থেকে রং—সবেতেই প্রকৃতিপ্রেম

মনের গহিনে ছোট্ট এক স্বপ্ন—একদিন নিজের নকশার পোশাক কিনবে মানুষ। চিনবে সবাই। প্রশংসিত হবে। নতুন নতুন কাজ যোগ হবে সম্ভারে—নিগার সুলতানার সুপ্ত বাসনা ছিল এমনই। এই তরুণীর পড়াশোনা ইলেকট্রনিক অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। তারপর শিখেছেন গ্রাফিক ডিজাইন। পোশাকের ক্যানভাসে কাজের স্বপ্ন লালন করেছেন মনে। সংসার-সন্তান সামলে ২০২৩ সালে অনুরাগের অনুমেঘার ভাবনা শুরু। দুই বছর কেটে যায় সূচনাপর্বে। তারপরে পসরা সাজিয়ে বসা পুরোদমে। এই সাহসী সিদ্ধান্তের পেছনে সন্তানের দেওয়া প্রেরণা জোগায় বাড়তি রসদ। ডানা মেলে উড়ছেন নিগার। পালকে রং লাগিয়েছে অনুমেঘা।
লেবেলটি মূলত কাজ করে নিত্যদিনের পোশাককে গুরুত্ব দিয়ে। সেখানে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট থাকে ভাবনায়। এখানকার আবহাওয়ায় কেমন পোশাকে মিলবে স্বস্তি, তা ভেবে ফ্যাব্রিকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন নিগার। বেশির ভাগ সময়ে যেহেতু উষ্ণ থাকে ধরণী, তাই স্বস্তিকেই রাখেন সামনে। ক্রেতার সারা দিনের কর্মব্যস্ততা আর সুন্দরতার চাহিদা—দুই নিয়েই চলে ভাবনা। তাই উচ্চ মানের সুতি কাপড় প্রথম পছন্দ। হাত তাঁত, খাদি, কোরাতেও কাজ করেন। এর বাইরে লিনেন আর পপলিন বেছে নেন প্রয়োজনে। বাতাস চলাচলের উপযুক্ত না হলে আরামের নিশ্চয়তা নেই, সে কথা ভুলে যান না এই ডিজাইনার। ফ্যাব্রিকের ধরন মাথায় রেখে বাকিটা সারেন। রং, নকশা, প্যাটার্ন, কারুকাজ—সব।
ঋতু ও উৎসব বিবেচনায় রেখে রঙের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন নিগার। সেখানে প্রভাবক যা-ই হোক, উৎস সব সময় প্রকৃতি। তিনি বলেন, ‘আমি কখনো ফুলের রং নিই, কখনো আকাশের কয়েকটি রং মিলিয়ে কাজ করি। একটি পাতাতেও আলো-ছায়ার খেলা থাকে। এসব নিয়ে কাজ করতে ভালো লাগে। কালার শেড মুগ্ধ হয়ে দেখি। আর তাতেই বুনি নকশার স্বপ্ন।’ বিভিন্ন রঙের সমাবেশ দেখা যায় এই লেবেলের পোশাকে। কোনো কার্পণ্য নেই সেখানে।
অনুমেঘার অলংকরণ পদ্ধতি সৃজনশীল। মেশিনের সাহায্য নেওয়া হয় না। হাত ছাপার পোশাক তৈরি হয় নান্দনিক নকশায়। মিনিমাল মোটিফ নিয়ে কাজ বেশি। সবই নিজস্ব। এখানেই শিল্পীমনের পরিচয় মেলে। প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক—দুভাবেই তৈরি করা হয় ডাই। ডিজাইন ডিটেইলিংয়ে কুসি-কাঁটার লেইস, টারসেল, পমপম, প্যাচওয়ার্কের মাধ্যমে সাধারণকে করে তোলা হয় অসাধারণ। মনের মাধুরী এখানে শতভাগ প্রকাশিত।
ক্রেতা সন্তুষ্টি এই বাংলাদেশি ফ্যাশন লেবেলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই একবারে অনেক পোশাক নয়, বরং অল্প অল্প তৈরি করা গুরুত্ব পায়। মানই মূল। নিজের করা নকশার মাধুর্য নিয়ে ধীর পায়ে চলতে চান অনুমেঘার স্বপ্নদ্রষ্টা। দেশপ্রেমও প্রবল। তাই বিদেশি পোশাকের আগ্রাসন রুখতে চান। ক্রেতা চাহিদা বুঝে সে অনুযায়ী সাজান নিকট ভবিষ্যতের পরিকল্পনা। বর্তমান সময়ের ফ্যাশন-সচেতনদের চাহিদা বুঝে আলাদা সেগমেন্ট করার বিষয়ে ভাবছেন; যেখানে রেশমের আনাগোনা দেখা যাবে। র, বলাকা আর এন্ডি সিল্কে পোশাক তৈরি করবেন।
প্রাকৃতিক তন্তুর ব্যবহারে ক্রেতার সুস্থতা আর স্টাইল—দুই-ই নিশ্চিত করতে চায় অনুমেঘা। ডেইলি ওয়্যারের পাশাপাশি উৎসবমুখর দিনেও ক্রেতা যেন এই লেবেলে আস্থা খুঁজে পান, যা রয়েছে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায়।

 ফ্যাশন ডেস্ক
ছবি: অনুমেঘার সৌজন্যে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back To Top