কুন্তলকাহন I কেশবতীর সলমা-জড়ি
অতিরিক্ত হিট নয়, অতিরিক্ত স্প্রেও নয়; বরং প্রস্তুতি আর সঠিক যত্ন এবারের ফেস্টিভ লুক সম্পূর্ণ করতে সক্ষম
হেয়ার অ্যাকসেসরিজ এ দেশের কালচারাল মেমোরির অংশ। বুনো ফুল কানে গুঁজে বন-পাহাড়ি ঝরনা পেরিয়ে যাওয়ার গল্প খুব চেনা। আবার একসময় বিশেষ সাজ মানেই ছিল চুলে বেলি ফুলের মালার বাহার। এরপরে মোগলরা চিনিয়েছিলেন মাথার অলংকার। ওয়াইটুকেতে আবার দেখা গিয়েছিল ক্লিপের রঙিন উপস্থিতি। নানান রঙে, নানান ঢঙে। ইনস্টাগ্রাম রিল বা টিকটক স্ক্রল করলে দেখা যাচ্ছে হাফ-আপ স্টাইলে পার্ল ক্লিপ, লো বানে গোল্ড পিন, ব্রেইডে ছোট ছোট অর্নামেন্ট। টিউটরিয়ালগুলো সহজ। স্যালন ছাড়াই করা যাচ্ছে ফেস্টিভ লুক। বছরের পর বছর স্ট্রেইটনার, কার্লার, ব্লো-ড্রাইয়ে নির্ভরতা চুলের ওপর চাপ ফেলেছে। ড্রাইনেস, স্প্লিট এন্ড, ব্রেকেজ এখন দুশ্চিন্তার বিষয়। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, হিট ছাড়া কি গ্ল্যামার সম্ভব? হেয়ার অর্নামেন্টস সেই প্রশ্নের উত্তর। হ্যাঁ, সম্ভব। শুধু জানা চাই সহজ কিছু কৌশল।
আনুপূর্বিক
সুন্দর স্টাইলের শুরু হয় প্রস্তুতি দিয়ে। যেদিন সাজবে চুল, তার আগের রাতে বা সকালে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিলে ভালো হয়। ক্লিন হেয়ার অ্যাকসেসরিজ ধরে রাখতে সাহায্য করে। ফাইন হেয়ার হলে গোড়ায় হেভি কন্ডিশনার এড়িয়ে চলাই ভালো। মাঝ থেকে শেষ অবধি কন্ডিশনিং করলেই চলবে। চাইলে লাইট লিভ-ইন সেরাম ব্যবহার করা যেতে পারে। কারণ, মসৃণ চুল হেয়ার জুয়েলারির ঝিলিক আরও ফুটিয়ে তোলে। এরপরে ডিট্যাংলিং করে নেওয়া প্রয়োজন। বড় দাঁতের চিরুনি এ ক্ষেত্রে হতে পারে সমাধান। রাতে ঘুমের সময়ে চুল বেণি করে নেওয়া যেতে পারে। হালকা বাঁধনে চুল বাতাসে শুকাবে। আঁটসাঁট না করাই ভালো। চাইলে সফট রোলার ব্যবহার সম্ভব। এগুলো চুলকে ভলিউম ও গ্রিপ দেয়, যা ক্লিপ ধরে রাখায় সহায়ক। বেণি খোলার পর তালুতে হালকা মাসাজ করে নিলে রক্তসঞ্চালন বাড়বে। তাতে অলংকারের সঙ্গে চুলের সন্ধি হবে জুতসই।
কেমন সাজে সাজি
হাজার রকম নকশার হেয়ার জুয়েলারি এখন বাজারে। কিন্তু সব নিয়ে জবরজং সেজে থাকলে তো চলবে না। নান্দনিক নকশার পরিমিত অলংকারেই মানাবে।
হাফ আপ, হাফ ডাউন
চুলকে হাফ আপ, হাফ ডাউনে সাজালে সেখানে পার্ল ক্লিপ বা ফ্লোরাল ব্যারেট হতে পারে রোমান্টিক অপশন।
ব্রেইড
চুলের এই সাজ স্ট্রাকচার তৈরি করে। তাই ছোট পিন লাইনে বসালে বেশ মানাবে বলে ধারণা করা যায়।
লুজ হেয়ার + সিঙ্গেল ক্লিপ
খোলা চুল শুধু ক্লিপের বাঁধনে বাঁধতে চাইলে টেম্পলের কাছে একটি ক্লিপ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে খুব বেশি টাইট নয়।
এ তো গেল পরামর্শ। তবে নিজের ইচ্ছাই সব। যেটি পছন্দ, সেটি-ই বেছে নেওয়া যেতে পারে। কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। মনে রাখা চাই, কোনোভাবেই যেন চুল হারিয়ে না যায় অনুষঙ্গের ভারে।
যত্নআত্তি
চুল সাজিয়ে নজর কেড়ে সব শেষে আসবে রাত। ঘুমের আগে মেকআপ পরিষ্কার করা যেমন মাস্ট, তেমনটাই বলা যেতে পারে হেয়ার জুয়েলারির বিষয়ে। সে জন্য প্রয়োজন ধৈর্য। হেলাফেলার সুযোগ নেই। প্রতিটি অলংকার সাবধানে খুলে নিতে হবে। চুলের ক্ষতি যেন না হয়। ডিট্যাংলিং করে নিতে হবে। তবে সরাসরি চিরুনি চালানোর আগে আঙুল ব্যবহারে ছাড়িয়ে নেওয়া যেতে পারে। লাইট সেরাম বা কয়েক ফোঁটা অয়েল মাঝামাঝি এবং শেষের অংশে ব্যবহার করা সম্ভব। স্ক্যাল্প রিলিফকে গুরুত্ব দিলে চুল শক্তি পাবে। হেড মাসাজ এ ক্ষেত্রে সহায়ক। চুল হালকা করে বেঁধে নিয়ে কাটিয়ে দেওয়া যেতে পারে বাকি সময়। এভাবে নিদ্রা দেবীর ডাকে সাড়া দিলেও ক্ষতি নেই। এরপরের দিনও কিছু যত্ন প্রয়োজন। হিট টুল এদিনেও তোলা থাকুক। বাতাসে শুকিয়ে নেওয়া যেতে পারে স্নানের পরে।
ঈদের কিংবা দাওয়াতের সাজ মানেই ছিল নিখুঁত কার্ল, গ্লাস-স্ট্রেইট ফিনিশ। সবেতে হিট টুলসের ওপর নির্ভরতা। কিন্তু ২০২৬ নিয়ে এসেছে অন্য এক অধ্যায়। সচেতন সৌন্দর্যের ভাষা। হেয়ার অর্নামেন্টস শুধু ট্রেন্ড নয়; একটি মনোভাবের পরিবর্তন। যেখানে গ্ল্যামার আর হেয়ার হেলথ একে অপরের বিপরীতে দাঁড়ায় না; বরং পাশাপাশি চলে।
বিউটি ডেস্ক
মডেল: দিবা
মেকওভার: পারসোনা
ছবি: জিয়া উদ্দীন
