skip to Main Content

মানুষের তীব্র আবেগ—যেমন রাগ, ভয় বা অতিরিক্ত আনন্দ অনেক সময় চোখের রং ভিন্ন দেখায় বলে মনে হয়। অনেকে এমন অভিজ্ঞতার কথা বলেন। প্রশ্ন হলো, সত্যিই কি আবেগের কারণে চোখের রং বদলে যায়? নাকি এটি শুধু দেখার ভ্রম?  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবেগের সময় শরীরের ভেতরে ঘটে যাওয়া কিছু স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের কারণে চোখের রং আলাদা মনে হতে পারে। মানুষ যখন তীব্র আবেগের মধ্যে থাকে, তখন মস্তিষ্কের অটোনমিক নার্ভাস সিস্টেম সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর ফলে চোখের মণি বা পিউপিল বড় বা ছোট হয়ে যায়। ভয়, উত্তেজনা বা রোমাঞ্চের সময় পিউপিল বড় হয়ে গেলে আইরিসের পেশি সংকুচিত হয়। এতে চোখের রং অনেক সময় গাঢ় দেখাতে পারে। অন্যদিকে রাগ বা উজ্জ্বল আলোতে পিউপিল ছোট হয়ে গেলে আইরিস কিছুটা ছড়িয়ে পড়ে, ফলে চোখের রং তুলনামূলক হালকা মনে হতে পারে।

আইরিসের ভেতরে থাকা মেলানিন বা রঞ্জক কণার বিন্যাসও আবেগের সময় সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে চোখে পড়া আলোর প্রতিফলনের ধরন বদলে যায়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় রেলি স্ক্যাটারিং। বিশেষ করে যাদের চোখের রং নীল, সবুজ বা ধূসর; তাদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন বেশি স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। তাই আবেগের মুহূর্তে তাদের চোখের রং উজ্জ্বল বা গাঢ় মনে হতে পারে। তীব্র আবেগের সময় চোখের রক্তনালিগুলোতে রক্তপ্রবাহ বেড়ে যায়। এতে চোখের সাদা অংশ কিছুটা লালচে দেখায়। এই লালচে পটভূমির কারণে চোখের রং আরও উজ্জ্বল মনে হতে পারে। একে বলা হয় কালার কন্ট্রাস্ট প্রভাব। এ ছাড়া কান্নার সময় চোখের ওপর জমে থাকা পাতলা জলস্তর আলোকে বেশি প্রতিফলিত করে। ফলে চোখ আরও স্বচ্ছ বা ঝলমলে দেখাতে পারে।

I ক্যানভাস অনলাইন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back To Top