তনুরাগ I হাইড্রেশন হ্যাকস
উষ্ণ আবহাওয়ার আভাস, আর্দ্রতা আর দীর্ঘ সময়ের পানিশূন্যতা; বাংলাদেশের এ সময়ের বাস্তবতায় ত্বকের যত্ন মানে শুধু বাইরে থেকে ময়শ্চারাইজিং আর ক্লিনজিং নয়, ভেতর-বাহির মিলিয়ে এক সমন্বিত হাইড্রেশন কৌশল
বসন্ত অধ্যায় থেকে বাতাসের আর্দ্রতা বাড়তে শুরু করে। আবহাওয়া হতে থাকে উষ্ণ। এমন পরিবেশে ত্বক অনেক সময় দেখতে স্বাভাবিক মনে হলেও ভেতরে ভেতরে পানিশূন্য হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে এবারের রোজা বসন্তে। তাই ইফতার থেকে সাহরী পর্যন্ত শরীরকে সচেতনভাবে জলীয় পুষ্টি পৌঁছে দেওয়া এবং কার্যকরী ত্বকযত্ন—দুই-ই জরুরি।
ইন্দোনেশিয়ার গাজাহ মাদা ইউনিভার্সিটির ডার্মাটোলজি বিভাগের প্রধান বিশেষজ্ঞ ড. ফজার ওয়াসকিতো ব্যাখ্যা করেছেন, রোজার সময় খাদ্য গ্রহণ কমে যায়, বিশেষ করে উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত খাবার। ফলে ত্বকের প্রদাহ কমে আসে। অন্যদিকে, ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ শাকসবজি ও ফল বেশি গ্রহণ ত্বকের বার্ধক্যপ্রক্রিয়াকে ধীর এবং স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। রোজা চলাকালে শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বা টক্সিন দূর হয়। এই ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়ায় ত্বক সতেজ থাকে। তবে বয়স্কদের ক্ষেত্রে, কার্বোহাইড্রেট ও চর্বি গ্রহণ কম হওয়ায় ত্বক শুষ্ক হতে পারে; তাই ময়শ্চারাইজার ব্যবহার অপরিহার্য।
ড. ফজার আরও পরামর্শ দেন নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফাইবারসমৃদ্ধ শাকসবজি ও ফল বেছে নেওয়া এবং অতিরিক্ত চিনি ও চর্বি এড়িয়ে চলা ত্বকের জন্য উপকারী। ঠোঁটের যত্নও গুরুত্বপূর্ণ। মিন্টযুক্ত টুথপেস্ট ঠোঁট শুষ্ক করে দিতে পারে। শুষ্কতা ঠেকাতে হাইপোঅ্যালার্জেনিক ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করা চাই।
স্লো-সিপ
ত্বককোষের সঠিকভাবে কাজ করা, এর মেরামত সুনিশ্চিতকরণ এবং সুরক্ষা বজায় রাখা নির্ভর করে পর্যাপ্ত জলীয় ভারসাম্যের ওপর। শরীরে পানির ঘাটতি হলে ত্বক প্রথমে এর সংকেত দেয় টানটান ভাব, নিস্তেজতা, রুক্ষতা কিংবা অতিরিক্ত তেল উৎপাদনের মাধ্যমে। পর্যাপ্ত পানি ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে; ফলে ত্বক থাকে কোমল, নমনীয় ও প্রাণবন্ত। ইফতার থেকে সাহরীর সময়টাতে স্লো-সিপ পদ্ধতিতে অল্প অল্প পানি পান করলে শরীর তা ভালোভাবে শোষণ করতে পারে। ডাবের পানি, দই বা সামান্য লবণ মেশানো লেবুপানি ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নিশ্চিত করে; যা ত্বকের সতেজ ভাব বজায় রাখে।
সুইট স্লিপ
ঘুমের রুটিন বদলে যাওয়ায় ত্বকে ক্লান্তি ভাব বা নিস্তেজতা দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। ভিটামিন সি সেরাম ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে, আর রাতের হাইড্রেশন মাস্ক ত্বককে দেয় সতেজ অনুভূতি। এগুলো যোগ করা যেতে পারে বিউটি রুটিনে। সপ্তাহে এক-দুবার হালকা এক্সফোলিয়েশন করা হলে মৃত কোষ সরে গিয়ে ত্বকের স্বাভাবিক দীপ্তি ফিরে আসে।
ইজি কেয়ার
জটিল ত্বকযত্নের পরিকল্পনা অনেক সময় ক্লান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই যতটা সম্ভব সহজ রাখার চেষ্টা করা ভালো। রোজার সময়ে রুটিনে পরিবর্তনের কারণে ত্বক কিছুটা সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে; তাই স্কিন ব্যারিয়ার মজবুত রাখা জরুরি। সিরামাইড ও গ্লিসারিন সমৃদ্ধ ময়শ্চারাইজার ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর শক্ত রাখে এবং পানি হারানো কমায়। দিনের বেলায় ঘরে থাকলেও সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি। কেননা, আলো ও তাপ ত্বকের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। পানিভিত্তিক ময়শ্চারাইজার এ সময়ে বেশ কাজে দেয়। এ ক্ষেত্রে লেবেলে হায়ালুরনিক অ্যাসিড, অ্যালোভেরা বা নারকেল এক্সট্র্যাক্ট লেখা আছে কি না, দেখে নেওয়া উত্তম। এই উপাদানগুলো ত্বক আর্দ্র রাখে। অত্যন্ত শুষ্ক ত্বকে ভারী ক্রিমও ব্যবহার করা যেতে পারে, যা অতিরিক্ত আর্দ্রতা সরবরাহ করবে।
রোজার সময় ঘরের ভেতর থাকলেও সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি ত্বককে ডিহাইড্রেট করে; ফলে বার্ধক্য ও নিস্তেজ ভাব দেখা দিতে পারে। তাই ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করা মঙ্গল, যা ত্বককে সূর্য থেকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি আর্দ্রতা ধরে রাখতেও সহায়ক। হাই কনসেন্ট্রেশন রেটিনয়েড জাতীয় এক্সফোলিয়েন্ট সপ্তাহে এক-দুবারের বেশি ব্যবহার না করাই ভালো। কেননা, রোজার সময় ত্বক সংবেদনশীল হওয়ায় বেশি শক্তিশালী প্রোডাক্ট ব্যবহার ত্বককে অশান্ত করতে পারে।
ফাহমিদা শিকদার
মডেল: ফাইজা
মেকওভার: পারসোনা
ওয়্যারড্রোব: ব্লুচিজ
ছবি: জিয়া উদ্দীন
