সুন্দরবনে যারা শিকারে যান তারা সচেতন ভাবে মেয়ে হরিণ শিকার করা থেকে বিরত থাকেন। কারণ মেয়ে হরিণ বাচ্চা জন্ম দেয়। ঠিক তেমনটাই করা হতো মোরগ-মুরগির ক্ষেত্রে। নব্বইয়ের আগে মুরগি পালনের উদ্দেশ্য ছিলো ডিম। আর মোরগ পালনের, মেহমানদারী।

মোরগের মাংসের সেদ্ধ পানিতে পোলাও রান্না করে তাতে মিশিয়ে দেয়া হতো মাংস। আস্ত পিস ভুলেও নয়। বরং ছিড়ে ছিড়ে। যাকে ইংরেজি ক্যুজিনে শ্রেডেড চিকেন বলে। এই সূত্রে তৈরি ডিশের নাম ছিলো খাচ্চা পোলাও।

পুরান ঢাকার সেই ঐতিহ্যের খোঁজ এখনো মেলে নারিন্দার ঝুনুর পোলাওতে; পুরোপুরি না হলেও কাছাকাছি। তাই বলা যায় আসলে মোরগ পোলাও বলে কিছু নেই। আবার মুরগি পোলাও বলেও কিছু নেই। দেশে পোল্ট্রি বিজনেসের কলেবর বৃদ্ধি সহজপ্রাপ্য করেছে খাবারের এই আইটেমটিকে। বংশ রক্ষার প্রাকৃতিক পদ্ধতিকে পাশে সরিয়েছে। তাই এখন আর ডিম আগে না মুরগি আগে ভাবতে হয় না। মোরগ নিয়েও না। চাইলেই তৈরি করা যায় মোরগ পোলাও কিংবা মুরগি পোলাও ; যা আদতে খাচ্চা পোলাও-ই বটে।
I ক্যানভাস অনলাইন
