skip to Main Content

নখদর্পণ I ফুড ফাস্টিং নেইল

নতুন নেইলপলিশ, ট্রেন্ডি ম্যানিকিউর বা স্যালন ট্রিটমেন্টে মুহূর্তের জন্য নখ সুন্দর দেখাতে পারে; কিন্তু তা কতটা টেকসই? বিশেষ করে রোজার সময়, যখন আমাদের খাবার ও পানির ছন্দ বদলে যায়, তখন নখই প্রথম ইশারা দেয়, শরীর ঠিক কী অনুভব করছে। লিখেছেন দিলজান নাহার চাঁদনী

রোজার সময় যখন খাবার ও হাইড্রেশনের রুটিন বদলে যায়, তখন শরীরের ছোট্ট দর্পণ নখ জানান দেয় অন্তঃপুরের খবর। তাই প্রয়োজন বিশেষ মনোযোগ। নখের যত্ন মানে শুধু স্যালনে যাওয়া নয়; বরং নিজের শরীরকে বোঝা। নখ ভেঙে যাওয়া, নখে শুষ্কতা বা বৃদ্ধিতে শ্লথগতি—এসব পুরোদস্তুর বাহ্যিক সমস্যা নয়; বরং ভেতরের ঘাটতির প্রতিচ্ছবি।
যেন চিরচেনা
নখ তৈরি হয় কেরাটিন নামের প্রোটিন থেকে। ঠিক চুলের মতো। তাই শরীর যখন পর্যাপ্ত প্রোটিন, মিনারেল বা ভালো ফ্যাট পায় না, এর সরাসরি প্রভাব পড়ে নখে। ফল—নখ ভঙ্গুর ও দুর্বল হয়ে যাওয়া। স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা কমে যাওয়ার মতো বিষয়। এই লক্ষণগুলো তখন প্রকাশিত হয় নখের ভাষায়।
পাতে পরিমিতি
রোজার সময়ে সহজলভ্য কিন্তু কম পুষ্টিগুণের খাবারে ঝুঁকে পড়েন অনেকে। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, চিনি আর ক্যাফেইন শরীরকে ডিহাইড্রেট করে এবং প্রয়োজনীয় নিউট্রিশনের জায়গা দখল করে নেয়। এর প্রভাবে নখ ধীরে ধীরে শক্তি ও উজ্জ্বলতা হারাতে থাকে। অতিরিক্ত মিষ্টি নখকে দুর্বল করে, বেশি চা-কফি বা কোমল পানীয় ডিহাইড্রেশন বাড়ায়। আবার ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত তেল অন্ত্রের পাশাপাশি নখের জন্যও ক্ষতিকর। তাই রোজার সময়কালে কী খাব, কী এড়িয়ে চলব, এই সচেতনতা জরুরি।
প্রোটিন
শক্ত নখের মূল ভিত্তি প্রোটিন। নখ প্রোটিনে তৈরি। তাই ডায়েটে প্রোটিন কম মানে দুর্বল নখ। ভালো দিক হলো, এর জন্য কোনো ফ্যান্সি খাবার দরকার নেই। ডিম, ডাল, ছোলা, মাছ, দই—সবই প্রোটিনের সহজলভ্য উৎস। ডিম বিশেষভাবে কার্যকর; কারণ, এতে বায়োটিনও থাকে, যা নখের গঠন মজবুত করে।
আয়রন
নখ ফ্যাকাশে দেখানো কিংবা সহজে ভেঙে যাওয়া অনেক সময় আয়রনের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। আয়রন নখের টিস্যুতে অক্সিজেন পৌঁছাতে সাহায্য করে; ফলে নখ থাকে প্রাণবন্ত। পালংশাক, ডাল, খেজুর, ছোলা এর ভালো উৎস। সঙ্গে লেবু বা ভিটামিন সি থাকলে আয়রন শোষণ আরও ভালো হয়।
গুড ফ্যাট
নখ যদি শুকনো ও রুক্ষ হয়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে শরীর সম্ভবত ভালো ফ্যাট পাচ্ছে না। স্বাস্থ্যকর ফ্যাট নখকে নমনীয় রাখে, ভাঙা কমায় এবং প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে। বাদাম, আখরোট, তিসি বীজ, অলিভ বা সরিষার তেল—সবই গুড ফ্যাটের দারুণ উৎস।
বায়োটিন ও জিংক
নখ বৃদ্ধির শ্লথগতি বা সহজে ভেঙে যাওয়া রোধে বায়োটিন ও জিংকের ভূমিকা বড়। তাই এগুলোকে বলা হয় নখ বৃদ্ধির সাইলেন্ট হিরো। কলা, ওটস, চিনাবাদাম, কুমড়ার বীজ নিয়মিত অল্প অল্প খেলে নখের টেক্সচারে পরিবর্তন দেখা যায়।
সংকেতে শুষ্কতা
পানি কম পেলে নখের প্রথম প্রতিক্রিয়া হয় শুষ্কতা। কিউটিকল শক্ত হয়ে পড়ে, নখের প্রান্তে ফাটল দেখা দেয়, উজ্জ্বলতা কমে যায়। নখ শুকনো মানেই শরীর ডিহাইড্রেটেড। নন-ফাস্টিং আওয়ারে পরিকল্পিত হাইড্রেশন জরুরি। ধীরে ধীরে পানি পান করা; সঙ্গে তরমুজ, শসা বা ডাবের পানি নখকে ভেতর থেকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। বডি হাইড্রেট থাকলে নখ নিজেই শক্ত ও স্মুথ থাকে।
যত্নে রাখি
খাবার ভেতর থেকে পুষ্টির জোগান দেয়; কিন্তু বাইরে থেকে যত্ন না নিলে গল্পটা থেকে যায় অসম্পূর্ণ। রোজার সময়ে শরীর তুলনামূলকভাবে কম হাইড্রেশন ও সীমিত পুষ্টি পায়, তাই নখের যত্নে বাড়তি সতর্কতা দরকার।
 অতিরিক্ত কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট এড়িয়ে চলা ভালো;
 নখ ছোট ও পরিষ্কার রাখা চাই;
 প্রতিদিন কিউটিকল অয়েল ব্যবহার করলে নখ ভালো থাকবে;
 জেল বা অ্যাক্রিলিক নখ কম ব্যবহার করাই মঙ্গল;
 প্রতিবার হাত ধোয়ার পর ময়শ্চারাইজ করা যেতে পারে।
রাতে ঘুমানোর আগে কিউটিকল অয়েল মাসাজ ও ভালো হ্যান্ডক্রিম ব্যবহার করলে নখ গভীরভাবে ময়শ্চারাইজ হয়। শরীর যখন বিশ্রামে থাকে, তখন এই কেয়ার সবচেয়ে ভালো কাজ করে।

ছবি: ইন্টারনেট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back To Top