skip to Main Content
স্টার সিনেপ্লেক্সে একই দিনে তিন হলিউড সিনেমা

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) একসঙ্গে তিনটি হলিউড সিনেমা মুক্তি পেয়েছে স্টার সিনেপ্লেক্সের পর্দায়। যার মধ্যে রয়েছে ‘২৮ ইয়ারস লেটার’-এর সিক্যুয়েল এবং ‘২৮ ডেজ লেটার’ ফ্রাঞ্চাইজির চতুর্থ সিনেমা ‘২৮ ইয়ার্স লেটার: দ্য বোন টেম্পল’, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীভিত্তিক সিনেমা ‘মার্সি’ এবং হরর সিনেমা ‘প্রাইমেট’। তিনটি সিনেমাই বছরের শুরুটাকে রঙিন করার আভাস দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এরইমধ্যে সিনেমাগুলো দর্শক-সমালোচকদের দৃষ্টি কেড়েছে। বাংলাদেশের দর্শকেরাও সিনেমাগুলো উপভোগ করবেন বলে আশাবাদী স্টার সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

২৮ ইয়ার্স লেটার: দ্য বোন টেম্পল

গেল বছরের জুনে মুক্তি পেয়েছিল ‘২৮ ডেজ লেটার’ সিরিজের সিনেমা ‘২৮ ইয়ারস লেটার’। অস্কারজয়ী ‘স্লামডগ মিলিয়নিয়র’খ্যাত পরিচালক ড্যানি বয়েল নির্মিত সিনেমাটি দারুণ সাফল্য পায়। আয়ের দিক থেকে সিরিজের পূর্ববর্তী সিনেমাগুলোকে ছাড়িয়ে যায়। এমন সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতে দর্শকদের সামনে এলো এই সিরিজের আরও একটি সিনেমা। ‘২৮ ইয়ার্স লেটার: দ্য বোন টেম্পল’ নামের এই সিনেমাটি আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পেয়েছে ১৬ জানুয়ারি ২০২৬। ‘২৮ ইয়ারস লেটার’-এর সিক্যুয়েল এবং ‘২৮ ডেজ লেটার’ ফ্রাঞ্চাইজির চতুর্থ সিনেমা ‘২৮ ইয়ার্স লেটার: দ্য বোন টেম্পল’। নিয়া ডা কস্টা পরিচালিত এ সিনেমার বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাফ ফিয়েনেস, জ্যাক ও’কনেল, আলফি উইলিয়ামস, এরিন কেলিম্যান, চি লুইস-প্যারি প্রমুখ।

বোন টেম্পল আসলে কোনো সাধারণ জায়গা নয়, এটি একটি প্রতীক। এখানে মানুষের হাড়, বিশ্বাস, মৃত্যু আর ক্ষমতা মিলেমিশে তৈরি করেছে এক ভয়ংকর ধর্মীয় কেন্দ্র; যেখানে মানুষকে মানুষ হিসেবে নয়, সম্পদ বা বলি হিসেবে দেখা হয়। সিনেমাটি ধীরে ধীরে দেখায়, কীভাবে ভয় মানুষকে অমানুষ করে তোলে, কীভাবে বেঁচে থাকার লড়াই বিশ্বাসকে অস্ত্রে পরিণত করে আর কীভাবে নতুন প্রজন্ম পুরনো পৃথিবীর পাপের বোঝা বহন করে। রেজ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ২৮ বছর পর, ব্রিটেন আর আগের মতো নেই। সংক্রমিতরা এখনও আছে, কিন্তু সবচেয়ে ভয়ংকর হয়ে উঠেছে মানুষই। সভ্যতা ভেঙে পড়ে এখন বিভিন্ন গোষ্ঠী, ধর্মীয়-ধাঁচের কাল্ট ও আধা-সামরিক শাসনে বিভক্ত এক ভয়াল সমাজ তৈরি হয়েছে। এই গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এক কিশোর ছেলে স্পাইক, যে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের খোঁজে একটি শক্তিশালী ও রহস্যময় গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। এই গোষ্ঠীর নেতা সার জিমি ক্রিস্টাল একজন ক্যারিশমাটিক কিন্তু ভীতিকর কাল্ট-লিডার, যার শাসন চলে ভয়, বিশ্বাস আর সহিংসতার মাধ্যমে। একই সময়ে ড. ইয়ন কেলসন নামের এক বিজ্ঞানী এমন এক ধারণা বা প্রকল্পে কাজ করছেন, যা মানবজাতির ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই ভবিষ্যৎ কি মুক্তির নাকি আরও ভয়াবহ নিয়ন্ত্রণের? সিনেমার ফোকাস শুধুই জম্বি সংক্রমণ নয়, মানুষের মধ্যে থাকা অমানুষিকতা, ধর্মীয় বা শক্তি-ভিত্তিক উগ্রবাদ, বেঁচে থাকার ক্রমাগত চাপ-ই মূল ভয়ের উৎস।

এই সিক্যুয়াল আগের সিনেমার ট্র্যাজেডি এবং চরিত্রের আবেগকে আরও গভীর করার চেষ্টা করে, যেখানে সংক্রমণের বিপদ ছাড়াও মানুষের নিজস্ব ও ভয়ংকর আলাদা সমাজ গঠন ও অনিশ্চয়তার গল্প বলা হয়।

মার্সি

বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিভিত্তিক সিনেমা ‘মার্সি’ পরিচালনা করেছেন তৈমুর বেকমাম্বেটভ। প্রযোজনা করেছেন চার্লস রোভেন এবং বেকমাম্বেটভ। প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ক্রিস প্র্যাট ও রেবেকা ফার্গুসন।

মার্সি হলো একটি ভবিষ্যতের গল্প। যেখানে প্রধান চরিত্র ক্রিস রাভেন নামে একজন ডিটেকটিভ, যার স্ত্রী মারা যায় এবং তিনি অকারণে সেই হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হন। তার বিরুদ্ধে মামলা চলে একটি অত্যাধুনিক এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) বিচারকের সামনে। ব্যাপারটা আরও উত্তেজনাপূর্ণ, কারণ তার কাছে মাত্র ৯০ মিনিট সময় আছে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে। তা না হলে এআই নিজেই তার ভাগ্য নির্ধারণ করবে।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ঘোষণা করা হয়েছিল, অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওর জন্য মার্সি নামে একটি বিজ্ঞান কল্পকাহিনি থ্রিলার চলচ্চিত্র তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে ক্রিস প্র্যাট অভিনীত হবেন। ছবিটি পরিচালনা করবেন তৈমুর বেকমাম্বেটভ। মার্চ মাসে, রেবেকা ফার্গুসন এবং অ্যানাবেল ওয়ালিস অপ্রকাশিত ভূমিকায় অভিনয়শিল্পীদের সাথে যোগ দেন। এপ্রিলে, কালি রেইস, রাফি গ্যাভরন, ক্রিস সুলিভান, কেনেথ চোই এবং কাইলি রজার্স অভিনয়শিল্পীদের সাথে যোগ দেন। মে মাসে, জেফ পিয়েরে চলচ্চিত্রটির অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে যোগ দেন।

সিনেমাটির বিশেষ দিক হলো, এর গল্প প্রায় রিয়েল-টাইম ফরম্যাটে নির্মিত হয়েছে, যেখানে সময় মুক্তিপণের ৯০ মিনিটের ফাঁকা সময়ের মধ্যে পুরো ঘটনায় মনোনিবেশ করা হয়েছে। ক্রিস প্র্যাট জানিয়েছেন, তিনি চরিত্রকে আরও বাস্তবভাবে দেখাতে নিজেকে চেয়ারে বেঁধে রাখার অনুরোধ করেছিলেন, যেন চরিত্রের হতাশা ও চাপ সঠিকভাবে ফুটে ওঠে। সিনেমাটি প্রযুক্তি, ন্যায়বিচার ও মানবিক দিকগুলোকে মিলিয়ে দেখাবে; যেখানে একটি এআই বিচার ব্যবস্থা মানুষের জীবনের উপর ক্ষমতা প্রয়োগ করে। এআই বনাম মানবতা মুখোমুখি হবে এখানে। এআই কি নৈতিকতা বুঝতে পারে, নাকি শুধু ডেটা দেখে সিদ্ধান্ত নেয়? আরও কিছু প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে সিনেমাটি; যেমন, ন্যায়বিচার দ্রুত বিচার মানেই কি ন্যায্য বিচার? সত্য বনাম প্রমাণ: সত্য জানা থাকলেও যদি প্রমাণ না থাকে? মানুষের অসহায়ত্ব: প্রযুক্তির সামনে মানুষ কতটা ক্ষমতাহীন হয়ে পড়ে।

প্রাইমেট

আমেরিকান হরর সিনেমা ‘প্রাইমেট’ পরিচালনা করেছেন জোহানেস রবার্টস। এটি ২০২৫ সালে বিভিন্ন উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে এবং ২০২৬ সালের শুরুতে বিশ্বজুড়ে থিয়েটারগুলোতে মুক্তি পেয়েছে। এতে অভিনয় করেছেন জনি সিকোইয়া, জেসিকা আলেকজান্ডার, ট্রয় কোটসুর, ভিক্টোরিয়া ওয়াইন্ট, গিয়া হান্টারসহ অনেকে। কিছু বন্ধুর ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা হঠাৎ আতঙ্কে রূপ নিতে শুরু করে যখন একটি বন্যপ্রাণী, বিশেষত শিম্পাঞ্জি-জাতীয় প্রাইমেট-এর আক্রমণের মুখোমুখি তারা হয়। গল্পে মূল ফোকাস থাকে বেঁচে থাকার জন্য লড়াই, টেনশন ও উত্তেজনা তৈরি করা। সিনেমার মূল গল্প আবর্তিত হয় একটি পরিবার এবং তাদের পোষা শিম্পাঞ্জিকে ঘিরে। কাহিনী শুরু হয় হাওয়াইয়ের একটি দূরবর্তী বাড়িতে, যেখানে একটি খেলার মাঠের মতো এলাকা আছে। সেখানে একটি শিম্পাঞ্জি গৃহপালিত প্রাণী হিসেবে পরিবারের সঙ্গে থাকে। লুসি পিনবোরো নামে একজন কলেজছাত্রী সম্প্রতি বাড়িতে ফিরে আসে তার বন্ধুদের সাথে অবকাশ যাপনের জন্য। সেখানে তার বাবা অ্যাডাম, যিনি শ্রবণ প্রতিবন্ধী ও প্রতীকী ভাষায় কথা বলেন এবং একটি ছোট বোনও আছে। তাদের সঙ্গে থাকা শিম্পাঞ্জিটির নাম বেন। এক সময় বেন একটি রেবিস প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত হয়। এরপর থেকে সে হয়ে ওঠে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও ভয়ঙ্কর। তার আচরণ বদলে যায় এবং সে সবাইকে আক্রমণ করতে শুরু করে। লুসি ও তার বন্ধুরা তাকে থামাতে ও বাঁচতে সংগ্রাম করে।

এই লড়াইয়ের গল্প নিয়েই এগিয়ে যায় সিনেমা। গল্পের মূল থিম গৃহপালিত প্রাণীর বিপজ্জনক রূপান্তর এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নিজেদের টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ।

  • ক্যানভাস অনলাইন
    ছবি: সংগ্রহ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back To Top