skip to Main Content

লেবেল অ্যালার্ট I হাউস অফ জবা

সামিয়া রহিমের উদ্যোগ। সুতি শাড়িতে বাজিমাত। ছাপচিত্রের বৈচিত্র্যে ঋদ্ধ। শুরুতে পুরোটাই ছিল এই উদ্যোক্তার শখ। আত্মার সংযোগও। যা ভালোবাসেন, তা নিয়ে কাজ করতে চেয়েছেন। দেখেছেন লেবেল গড়ার স্বপ্ন। সেই শখ ও স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি হাউস অফ জবা।
সময়টা ২০২০। আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় অনুষদের শিক্ষার্থী সামিয়া সুযোগ পেলেই শাড়ি কিনতেন। কেনা শাড়িতে মন না ভরলে তাতে যোগ করতেন নিজের সৃজনশীল মনের উপাদান। কখনো ছাপচিত্র, কখনো বন্ধন-রঞ্জন, কখনোবা লেইসে সাজিয়ে নেওয়া। আবার থান কাপড় কিনে নিজেই তৈরি করতেন অনন্য সব নকশি পাড়ের শাড়ি। সামিয়ার পরনের শাড়ি দেখে মুগ্ধ হতেন আশপাশের অনেকে। ‘কোথায় পেয়েছ? কোন ব্র্যান্ড? কত দাম?’ এমন নানা প্রশ্ন। আসত শাড়ি তৈরি করে দেওয়ার অনুরোধও। এদিকে পড়াশোনা তখন শেষের পথে। তত দিনে করোনার আকস্মিক হানায় স্থবির পৃথিবী। তবে থমকে যেতে চাননি সামিয়া। ভাবতে থাকেন শাড়ি নিয়ে। বাংলাদেশের বিস্তৃত শাড়ির বাজারে নতুন কী করা যায়, তা ঘিরে ভাবনায় একটু দ্বিধা আর তুমুল আগ্রহ ছিল সম্বল।
ব্র্যান্ড তৈরি হয়। একটা নাম তো চাই। সুন্দর কোনো শব্দ। খুঁজতে খুঁজতে সামিয়া ফিরে গেলেন শৈশবে। ফুল গাছে ঘেরা এক স্মৃতিময় বাড়িতে কাটানো দিনগুলোতে। টুকটুকে লাল জবা ফুলে ছেয়ে যেত সেই বাড়ির চারপাশ। কখনো জবা ভর্তি গাছের সামনে দাঁড়িয়ে, কখনোবা কানে জবা গুঁজে চলত ছবি তোলা। মনের অজান্তে এই ফুলের প্রেমে পড়েছিলেন তিনি। বললেন, ‘একসময় আমার ডাকনামই হয়ে গেল জবা। তাই ব্র্যান্ডের জন্য বেছে নিলাম আমার শিকড়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সেই নাম।’
এই দেশি ফ্যাশন লেবেল নিত্যদিনের উপযোগী শাড়ি তৈরি করে। যেন খুব সাধারণ দিনে ইচ্ছা হলেই চট করে পরে নেওয়া যায়। শুরুটা টাই-ডাই শাড়ি দিয়ে হলেও একের পর এক জুড়তে থাকে আরও অর্নামেন্টেশন টেকনিক। মোটিফে পদ্ম, জবা, গাঁদার পাশাপাশি প্রকৃতি থেকে যোগ হয় আরও কত কিছু! অতি সাধারণে অসাধারণত্ব প্রকাশে হাউস অফ জবা দেখিয়েছে মুনশিয়ানা। বোটানিক্যাল ইন্সপিরেশন যেন ব্র্যান্ড ফিলোসফি। অলংকরণে টাই-ডাই, অ্যাপ্লিক, হ্যান্ড ব্লক, স্ক্রিন প্রিন্ট।
প্রকৃতির রং ও বাংলাদেশের কারুশিল্পের সংমিশ্রণ হয়ে ওঠে প্রতিটি শাড়ি। হ্যান্ডলুম সুতির পাশাপাশি র-সিল্ক, সিল্ক ও জামদানি শাড়িতে জায়গা পেয়েছে দেশীয় নকশায় নান্দনিক কারুকাজ। প্রতিটি নকশার পেছনে একেকটি নির্দিষ্ট আবহ। উৎসব, ঋতু, নয়তো ট্রেন্ডি কিছু।
শাড়ির মূল ধারণাকে শুরু থেকে অক্ষত রাখতে চেয়েছেন সামিয়া। যেন খুব সাধারণ শাড়িও হতে পারে হালফ্যাশনের যোগ্য। তা ছাড়া আজকাল নকশায় দেওয়া হচ্ছে বিশেষ নজর। আঁকার সময় চলতি নকশার শাড়িতে যা নেই, তা খুঁজে ফেরেন তিনি। মোটিফ, রং কিংবা কারুকাজ—যা নতুন, তা-ই হয়ে ওঠে হাউস অফ জবার শাড়ির অংশ। সামিয়া বলেন, ‘নিজে নকশা করে নিজেই জড়াতাম গায়ে। প্রশংসা পেত যেসব ডিজাইন, সেসবের ফরমায়েশ আসত পরিচিতজনের কাছ থেকে। শুরুটা সেভাবেই। তবে সময়ের সঙ্গে ক্রেতাদের পছন্দ ও স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে নতুন করে ভেবেছি। বেড়েছে পরিধি।’
হাউস অফ জবার আঙিনায় নতুন নকশার শাড়ি এলে প্রথমে নিজেই পরেন সামিয়া। ছবি তোলেন। ক্রেতারা তা দেখে শাড়ি কেনেন। সব বয়সী নারী, যারা শাড়ি পরতে ভালোবাসেন, তারাই ক্রেতা। শাড়িগুলো তৈরি হয় আরামদায়ক সুতা ও রঙে। বেশির ভাগ শাড়ির দাম ২ থেকে ৩ হাজার টাকা। ৮ হাজার টাকার শাড়িও রয়েছে। শাড়ির পাশাপাশি স্বল্প পরিসরে আজকাল টপস, কামিজ এনেছে হাউস অফ জবা। কাজের পরিধি বড় করাই উদ্দেশ্য, জানান সামিয়া। বলেন, ‘পরিবেশবান্ধব উপায়ে দেশীয় পোশাক তৈরি করা সম্ভব। আর শাড়ি তো আমাদের অস্তিত্বের অংশ। সহজ শাড়ি যেন সহজে পরা যায়, তা নিশ্চিত করতে চাই। পরিচিত ও বিশ্বাসযোগ্য নাম হিসেবে দেখতে চাই হাউস অফ জবাকে।’

 ফ্যাশন ডেস্ক
ছবি: হাউস অফ জবার সৌজন্যে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back To Top