ফিচার I স্টাইলিং ম্যাথ ২x২
স্টাইলিং প্রিন্সিপল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জন্ম। ছেলেবেলার দুইয়ের ঘরের নামতাতেই সমাধান! বেসিকের সঙ্গে স্টেটমেন্টের সন্ধি
ফ্যাশন আদতে নিয়ম মানে না। আবেগ আর সহজাত প্রবৃত্তির ফল। কিন্তু কখনো কখনো গঠনগত সূত্র সহজ করে সমাধান। ২x২ তেমনই। এই স্টাইলিং শর্টকাটে আউটফিট বদলে দেওয়া যায়। সিম্পল ব্যালেন্সিং অ্যাক্ট। শুধু নিজের সাজপোশাক আলাদা করে নেওয়া চাই দুটি বিপরীত ভাগে। একটি ভাগ বেসিকের; অন্যটিতে ফ্যাশন ফরোয়ার্ড। পলিশড ভার্সেস রিল্যাক্সড, বেসিক ভার্সেস স্টেটমেন্ট, স্ট্রাকচার্ড ভার্সেস ফ্লুইড। দুই ভাগে বিভক্ত করা চাই ওজন। মনোযোগ আর গুরুত্ব হতে হবে একই রকম। কোনোখানেই বেশি কিংবা কম নয়। যাচ্ছেতাইয়ের নেই জায়গা। সবই সমান সমান। এখনকার ফ্যাশনিস্তারা দারুণ ব্যস্ত। সব সামলে, নিজের জন্য তেমন সময় নেই। আবার রেডিমেইডে মন নেই তাদের। ফল—কম্বিনেশন টেনশন। সমাধান অবশ্য নিজেরাই খুঁজে বের করেছেন। দুই দুগুণে চার মিলিয়ে।
মেথড ২x২
স্বাধীনচেতা মন তাদের সায় দেয় না। চায় স্টাইলিংয়ের অবাধ সুযোগ। তাই একটির সঙ্গে অন্যটির যোগেই আনন্দ। কিন্তু এত কিছুর জন্য যে সময় আর পরিকল্পনা দরকার, সেই ফুরসত কই? নেই! ব্যস্ততা সেই অবসর দেয় না; বরং তৈরি হয় অস্বস্তি। নিজেকে মনমতো তৈরি করতে না পারলে সারাটা দিন কাটে না ভালো। আত্মবিশ্বাস ঠেকে তলানিতে। কখনো মনে হয় খুব বেশি ফরমাল হয়ে গেছে, কখনো আবার পর্যাপ্ত গোছানো লাগছে না। ২x২ মেথড এই দ্বিধাকেই দূর করে দেয়। এই মেথডের মূল ধারণা খুব সোজা। একটি আউটফিট তৈরি করতে হবে চারটি আইটেম দিয়ে—দুটি স্মার্ট বা নাইস পিস আর দুটি ক্যাজুয়াল পিস। এই চারের সমন্বয়েই তৈরি হবে এমন এক লুক, যা অতিরিক্ত ফরমাল নয়, আবার একেবারে ক্যাজুয়ালও নয়। বরং ঠিক মাঝখানের জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকবে; যাকে বলে এফোর্টলেসলি স্টাইলিশ।
সরল সমাধান
দুনিয়াতে শুধু এই একটি ফ্যাশন রুলই তৈরি হয়েছে, তা নয়। তবে সফলভাবে অঙ্ক মেলাতে পেরেছে খুব কমসংখ্যকই। সেই সাফল্যের দলে ২x২ অন্যতম। যে দুটি এলিভেটেড ফ্যাশন পিস, সেই দুটি স্ট্রাকচার্ড কাটের হলে লুক হয়ে ওঠে পলিশড। ধরা যাক, একটি ব্লেজার আর একটি টেইলরড কাট প্যান্ট। এই দুয়ের প্যাটার্ন যদি স্ট্রাকচার্ড হয়, তখন আউটফিট এমনিতেই নির্ভরযোগ্য কাঠামো পেয়ে যায়। দেহের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই হওয়ায় পরিশীলিত মনে হয়। এমনকি সাধারণ মানের পোশাক হলেও হাই ফ্যাশন পিস মনে হতে পারে।
ক্যাজুয়াল আইটেম যোগ করা যাবে দুটি। এখানেও আসে নজরকাড়ার সুযোগ। সে কেমন? এমন কিছু, যা খুব বেশি অফিশিয়াল না হলেও অফিস ওয়্যার হিসেবে চালানো সম্ভব। বেসপোক স্যুটের সঙ্গে সাধারণ টি-শার্ট রাখা যেতে পারে ইনারে। সঙ্গে ব্যাগটি হতে পারে অর্নামেন্টেড, অথচ স্ট্রাকচার্ড। একদম বেসিকেরও বেসিক নয় মোটেই।
২x২ ফ্যাশন রুল মানুষকে নিয়মে বাঁধতে চায় না। শতভাগ স্বাধীনতা দিয়ে নিজের মতো ওয়্যারড্রোব প্ল্যানিং করতে স্বাগত জানায়। কোনো লুককেই করতে চায় না রাশভারী। স্বাভাবিক আর চলনসই রাখতে আগ্রহী। এই ব্যালেন্সই ২x২ মেথডের আসল শক্তি।
স্ট্যাপল পিস
এই ফ্যাশন ফর্মুলার জরুরি বিষয় হলো কার্যকরী স্ট্যাপল পিস থাকা। অর্থাৎ এমন কিছু স্মার্ট ও ক্যাজুয়াল পোশাক ও অনুষঙ্গ, যেগুলোর ওপর বারবার ভরসা করা সম্ভব। স্মার্ট ক্যাটাগরিতে থাকতে পারে ভালো কাটের ব্লেজার, টেইলরড ট্রাউজার বা পেন্সিল স্কার্ট, স্ট্রাকচার্ড ব্যাগ, ক্ল্যাসিক হিল বা মিনিমাল লোফার। ক্যাজুয়াল ক্যাটাগরিতে রাখা যেতে পারে সাদা বা নিউট্রাল টি-শার্ট, বেসিক কালার শার্ট, টপ, ডেনিম, স্নিকার্স বা ফ্ল্যাট স্যান্ডেল, স্লাউচি টোট ব্যাগ। কারণ, এই স্ট্যাপলগুলো দিয়েই অসংখ্য ২x২ কম্বিনেশন বানানো সম্ভব। প্রতিদিন নতুন মনে হবে; অথচ ভাবনায় সময় লাগবে কম।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক স্টাইল ট্রিক ভাইরাল হয়; আবার হারিয়ে যায় হুট করেই। কিন্তু ২x২ মেথড এখানেই আলাদা। কারণ, এটি ট্রেন্ড নয়; বরং একটি পদ্ধতি। এটি পরিমাণের চেয়ে গুণমানকে গুরুত্ব দেয়। একধরনের ক্যাপসুল ওয়্যারড্রোব ভাবনার মতো। অনেক তারকাও এই সূত্র মেনে চলেন। রাশিয়ান সুপারমডেল ও অভিনেত্রী ইরিনা শাইক যখন স্টেটমেন্ট কোট ও এরমেসের লাক্সারি কেলি ব্যাগ নেন, তখন সঙ্গে রাখেন সাধারণ কালো সোয়েটার আর স্নিকার্স। আবার হেইলি বিবার সন্ধ্যার আউটিংয়ে ওভারসাইজড জ্যাকেট ও লেদার মিনি-শর্টসের সঙ্গে পরেন সাদা টি-শার্ট ও মিনিমাল মিউলস। ফল? স্টাইলিশ, কিন্তু কখনোই অতিরিক্ত নয়। ২x২ মেথড মনে করিয়ে দেয়, ভালো স্টাইল মানেই বেশি পোশাক নয়। ফ্যাশন বর্জ্য কমিয়ে আনার চেষ্টায় যারা, তারা এমন মেথডে লুক ক্রিয়েট করলে নৈতিকতার দিক থেকে যুক্তিযুক্ত অবস্থানে থাকতে পারবেন বলে আশা করা যায়। আবার দেখতেও সুন্দর লাগবে। একদম দুই ছক্কা পাঁচ!
ফ্যাশন ডেস্ক
মডেল: প্রিয়ন্তী ও প্রতীতি
মেকওভার: পারসোনা
ওয়্যারড্রোব: ব্লুচিজ
ছবি: জিয়া উদ্দীন
