ফিচার I সায়াহ্নে সাজ সৌম্য
আলো বদলায়, উৎসবের আমেজও। দিনের শেষে পরিবারের সঙ্গে প্রিয় সময়, আত্মীয়-বন্ধু-অফিসের দাওয়াত—সব এমন লগ্নেই। কখনো হোস্ট, কখনোবা গেস্ট। ভূমিকা যেমনই হোক, নিজেকে সুন্দর করে উপস্থাপন তো চাই
দিনের আলোর পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পোশাকের ভাষাও বদলে যায়। সন্ধ্যার আলো দিনের মতো তীব্র নয়; বরং কোমল, উষ্ণ ও মাধুর্যপূর্ণ। তাই সান্ধ্য আয়োজনের পোশাকের রং বাছাইয়ে প্রয়োজন বাড়তি সচেতনতা। কড়া লাল, পান্না সবুজ, গাঢ় নীল, রাজকীয় বেগুনি, শ্যাম্পেইন গোল্ডসহ অন্যান্য মেটালিক ও জুয়েল টোন এ সময় বেশ মানাবে। তাই বলে এই শেডগুলোর বাইরে কিছু পরা যাবে না, তা নয়। যারা হালকা রঙে স্বচ্ছন্দবোধ করেন, তাদের জন্য প্যাস্টেল পিংক, ল্যাভেন্ডার কিংবা পাউডার ব্লুও হতে পারে চমৎকার বিকল্প। কালার প্ল্যানিংয়ে একটি সহজ তত্ত্ব মাথায় রাখা যেতে পারে। ওয়ার্ম স্কিন টোনে গোল্ডেন, অলিভ কিংবা ডিপ রেড শেড সাধারণত বেশি মানায়; আর কুল টোনে ব্লু-বেসড রং কিংবা সিলভার শেড দেখায় তুলনামূলক অধিক উজ্জ্বল। তবে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, যে রঙে স্বচ্ছন্দ ও আত্মবিশ্বাসী মনে হয়, সেটিই সেরা পছন্দ।
ফ্যাশন তখনই সুন্দর, যখন তা আরামদায়ক। যেখানে নিশ্বাস নেওয়া যায় মন খুলে। তাই একটু ঢিলেঢালা কুর্তি, আনারকলি, কাফতান, আবায়া মানাবে। বেশি ঘেরের স্কার্ট, ওয়াইড লেগড ট্রাউজারও চলতে পারে। পেয়ার আপ করতে পারেন টপের সঙ্গে। ফ্যাব্রিকে সিল্ক, শিফন, র-সিল্ক বেশ মানানসই। ওভারসাইজড সিলুয়েট আরাম দেবে; আবার লুকেও আনবে আভিজাত্য। অলংকরণে থাকতে পারে বিডস ওয়ার্ক, স্যাটিন স্টিচ, রেশম এমব্রয়ডারি। জমকালো পছন্দ হলে থাকতে পারে সিকুইন, মিরর ওয়ার্ক, গোটা পাতি এবং পাইপিং এমব্রয়ডারির কাজ। পুরুষদের ক্ষেত্রে টেইলরড পাঞ্জাবি, ফিউশন কুর্তা-প্যান্ট কিংবা সিম্পল কাটের স্যুট—সবই মানাবে। ফিটিং ও ফ্যাব্রিক—দুই-ই হওয়া চাই মানানসই। এমন দাওয়াতে যাদের আলাদা ব্যস্ততা যোগ হয় বাচ্চাদের নিয়ে, তারা সহজে পরিধানযোগ্য ফ্যাব্রিক বেছে নিলে স্বস্তি পেতে পারেন। ব্রোকেড, ভারী ভেলভেট বা স্টিফ অরগ্যাঞ্জা দেখতে সুন্দর হলেও চলাফেরায় খানিকটা কম সুবিধাজনক। বরং স্ট্রেচ স্যাটিন, ক্রেপ, জর্জেট বা নিট কাপড় বেশি উপযোগী।
বিশেষ দিন থেকে শুরু করে রেগুলার গেট টুগেদার—সবকিছুতেই আজকাল অনেকে স্মৃতিগুলো ক্যামেরাবন্দী রাখতে চান। হাতের নাগালে মুঠোফোন কাজটা যেন আরও সহজ করে দেয়। তাই আপনার পোশাকসহ পুরো লুক ঠিক ক্যামেরা-ফ্রেন্ডলি কি না, তা নিয়েও ভাবা যেতে পারে। বেশি চকচকে স্যাটিন, মেটালিক বা সিকুইন ফ্যাব্রিক ক্যামেরার ফ্ল্যাশে কখনো অতিরিক্ত উজ্জ্বল কিংবা ফ্যাকাশে লাগতে পারে। অন্যদিকে ম্যাট কাপড় বা ক্রেপ সাহায্য করবে ফোকাস ধরে রাখতে। আবার বেশি হালকা শিফন বা লেইস ফ্যাব্রিক ব্যবহারে স্বচ্ছতাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ক্যামেরায় বেশি হালকা বুনন কখনো কখনো অপ্রত্যাশিতভাবে স্বচ্ছ হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রয়োজনে লাইনিং ব্যবহার নিরাপদ।
দাওয়াত মানেই যেহেতু দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা, তাই আবহাওয়া মাথায় রাখা জরুরি। সন্ধ্যায় তাপমাত্রা কিছুটা কম থাকলেও বসন্তের দিনে লিনেন বা লাইট সিল্ক আরাম দেয়। শীতে বা তাপানুকূল ভেন্যুতে ভেলভেট, উল-ব্লেন্ড বা ব্রোকেড বেশ মানানসই। আবহাওয়া অনিশ্চিত হলে সঙ্গে রাখা যেতে পারে হালকা শাল, কেপ বা লেয়ার।
একটি সাধারণ পোশাকও সঠিক অ্যাকসেসরিতে হয়ে উঠতে পারে অসাধারণ। স্টেটমেন্ট কানের দুল, নেকপিস, ব্রেসলেট, এলিগ্যান্ট ক্লাচ, কোমরের বেল্ট, ম্যাচিং হিল বা এমবেলিশড ফ্ল্যাট পূর্ণতা এনে দিতে পারে। চুলে ছোট ক্লিপ বা সফট হেয়ার অ্যাকসেসরিও যোগ করতে পারে আলাদা মাত্রা। এখানে মূল সূত্র হলো ব্যালান্স। তাহলেই ফিটফাট।
দিলজান নাহার চাঁদনী
মডেল: ইরা, সিনথিয়া ও তৌহিদা
মেকওভার: পারসোনা
ওয়্যারড্রোব: সারাহ্ করিম
ছবি: জিয়া উদ্দীন
