বাংলাদেশের সম সাময়িক ফ্যাশন দৃশ্যপটে এখন একধরনের নীরব আত্মবিশ্বাস কাজ করছে, যেখানে স্টাইলের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে দৃষ্টিভঙ্গি, আর পোশাকের সঙ্গে গল্প। একটি ফ্যাশন ব্র্যান্ডের ভবিষ্যৎ খুব কম সময়েই নির্ধারিত হয় বড় ঘোষণায়। বেশির ভাগ সময় তা গড়ে ওঠে নীরব সিদ্ধান্তে; যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বোর্ডরুমের আলো-আঁধারিতে, স্টোর ফ্লোরের প্রতিদিনের বাস্তবতায়, কিংবা সংখ্যার আড়ালে লুকিয়ে থাকা সূক্ষ্ম ইঙ্গিতগুলো বুঝে। ফাজলে রাব্বি সেই ধরনের নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্ব করেন, যারা দৃশ্যমান কোলাহলের বাইরে দাঁড়িয়ে ধীর, সচেতন ও সুস্পষ্ট পরিকল্পনায় একটি ব্র্যান্ডের ভিত নির্মাণ করেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

ফজলে রাব্বি
ব্লুচিজ-এর চিফ অপারেটিং অফিসার হিসেবে তার নেতৃত্বের মূল ভিত্তি অপারেশনাল স্পষ্টতা ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি। অপারেশন প্ল্যানিং, এক্সপানশন স্ট্র্যাটেজি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ– এই তিন জায়গায় তার অবস্থান দৃঢ়; তবে কখনোই অনমনীয় নয়। তিনি জানেন কখন তথ্য ও বিশ্লেষণের ওপর নির্ভর করতে হবে, আবার কখন মানুষের অভিজ্ঞতা ও অন্তর্দৃষ্টিকে প্রাধান্য দেওয়া চাই। এই ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণই তাকে সমসাময়িক নেতৃত্বের ভিড়ে আলাদা করে চিহ্নিত করে।
ম্যানেজমেন্ট টিমের সঙ্গে তার বোঝাপড়া কেবল দায়িত্ব ভাগাভাগির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভিন্ন ভিন্ন ধারণাকে শোনা, সেগুলোর অন্তর্নিহিত সম্ভাবনা অনুধাবন করা এবং বাস্তবতার কাঠামোয় রূপ দেওয়া– এই ট্রান্সলেশন প্রক্রিয়াতেই তার প্রকৃত শক্তি। ভিশনকে অপারেশনে, চিন্তাকে কাঠামোয় এবং সম্ভাবনাকে বাস্তবতায় রূপান্তর করার এই দক্ষতাই ব্লুচিজ-এর ধারাবাহিক বিস্তারের পেছনে একটি নীরব কিন্তু কার্যকর চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।

এক্সপানশন তার কাছে সংখ্যার খেলা নয়; এটি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি প্রক্রিয়া। কোন লোকেশন কী গল্প বলবে, কোন স্টোর কী অনুভূতি তৈরি করবে– এই প্রশ্নগুলোর উত্তর তিনি খোঁজেন ন্যারেটিভের ভাষায়। আর এখানেই তার চলচ্চিত্র নির্মাণের অভিজ্ঞতা যুক্ত করে একটি আলাদা মাত্রা। একজন ফিল্মমেকার হিসেবে দৃশ্য, ছন্দ ও আবেগ বোঝার সংবেদনশীলতা তিনি নিয়ে এসেছেন রিটেইল স্টোরিটেলিংয়ে। প্রতিটি ব্লুচিজ স্টোর যেন একটি পরিকল্পিত ফ্রেম; যেখানে আলো, স্পেস ও মুভমেন্ট মিলিয়ে কাস্টমার নিজেই হয়ে ওঠে গল্পের অংশ।
তবে তার নেতৃত্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দিকটি লুকিয়ে আছে মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্কের ভেতর। টিমের ওপর বিশ্বাস রাখা, সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়ায় তাদের সম্পৃক্ত করা এবং প্রতিদিনের চাপের মধ্যেও মানবিক ও এম্প্যাথেটিক থাকা– এই গুণগুলো তাকে কেবল একজন দক্ষ অপারেশনাল লিডার নয়; বরং একজন বিশ্বাসযোগ্য নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি নেতৃত্ব দেন নির্দেশ দিয়ে নয়; বরং বোঝাপড়া, আস্থা ও সম্মানের মাধ্যমে।

ফাজলে রাব্বির নেতৃত্ব বলিষ্ঠ; কিন্তু কখনোই উচ্চকণ্ঠ নয়। এটি প্রকাশ পায় কাজের ধারাবাহিকতায়, সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতায় এবং মানুষের প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধায়। দ্রুত বদলে যাওয়া ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি ব্লুচিজকে এগিয়ে নিচ্ছেন এমন এক ভবিষ্যতের দিকে, যেখানে পরিকল্পনা ও অনুভূতি, কাঠামো ও গল্প– সবকিছুই একই ভাষায় কথা বলে।
এই নেতৃত্ব, দর্শন ও কাজের পেছনের মানুষটিকে আরও কাছ থেকে বোঝার জন্য ব্লুচিজ-এর সিওও ফজলে রাব্বির সঙ্গে একান্ত আলাপ জমানো যাক।
প্রশ্ন: আপনি নেতৃত্বকে কীভাবে ব্যক্তিগতভাবে সংজ্ঞায়িত করেন?
ফজলে রাব্বি: আমার কাছে নেতৃত্ব মানে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা নয়; বরং মানুষ, পরিস্থিতি ও সময়কে বোঝার ক্ষমতা। একজন নেতা আগে শোনেন; তারপর কথা বলেন। যখন টিম অনুভব করে যে তাদের কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনা হচ্ছে, তখন দায়িত্ব নেওয়ার সাহসও তারা নিজেরাই খুঁজে পায়।
প্রশ্ন: আপনার ক্যারিয়ারে এমন কোনো সিদ্ধান্ত আছে কি, যা আপনার নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে?
ফজলে রাব্বি: অনেক সময় আমাকে ‘না’ বলার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, যদিও তা তাৎক্ষণিকভাবে সহজ ছিল না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বুঝেছি, সব সুযোগ গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। সঠিক সিদ্ধান্ত অনেক সময় ধৈর্যের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে।

প্রশ্ন: চাপের মুহূর্তে আপনি কীভাবে সিদ্ধান্ত নেন?
ফজলে রাব্বি: চাপের মধ্যে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা থাকে। আমি চেষ্টা করি ঠিক উল্টোটা করতে; একটু থামতে। সেই ছোট বিরতি আমাকে পরিস্থিতি পরিষ্কারভাবে দেখতে সাহায্য করে এবং আবেগের বদলে যুক্তিকে প্রাধান্য দিতে শেখায়।
প্রশ্ন: আপনি টিমে সবচেয়ে কোন গুণটি খুঁজে থাকেন?
ফজলে রাব্বি: সততা ও দায়বদ্ধতা। স্কিল শেখানো যায়; কিন্তু সততা শেখানো যায় না। যখন টিমের মানুষ নিজের কাজের দায় নেয়, তখন পুরো সিস্টেমই শক্ত হয়ে ওঠে।
প্রশ্ন: ম্যানেজমেন্ট টিমের সঙ্গে আপনার কাজ করার স্টাইল কেমন?
ফজলে রাব্বি: আমি একক সিদ্ধান্তে বিশ্বাস করি না। ভিন্ন মত ও ভিন্ন অভিজ্ঞতা– এই বৈচিত্র্য থেকেই ভালো সিদ্ধান্ত আসে। ম্যানেজমেন্ট টিমের সঙ্গে আমার সম্পর্ক মূলত পারস্পরিক আস্থা ও খোলামেলা আলোচনার ওপর দাঁড়িয়ে।
প্রশ্ন: রিটেইল লিডারশিপে এম্প্যাথির ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
ফজলে রাব্বি: রিটেইল একটি উচ্চচাপের পরিবেশ। প্রতিদিন মানুষের সঙ্গে কাজ করতে হয়, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এখানে এম্প্যাথি মানে শুধু সহানুভূতি নয়; বাস্তবতা বোঝার ক্ষমতা। এই বোঝাপড়াই টিমকে দীর্ঘমেয়াদে শক্ত করে।

প্রশ্ন: ফিল্মমেকিং আপনার চিন্তাভাবনাকে কীভাবে প্রভাবিত করেছে?
ফজলে রাব্বি: ফিল্ম আমাকে শিখিয়েছে গল্পের শক্তি। কখন কথা বলতে হবে, কখন নীরব থাকতে হবে– এই ভারসাম্য নেতৃত্বেও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি সিদ্ধান্ত একধরনের দৃশ্য, আর তার প্রভাব অনেক দূর পর্যন্ত যায়।
প্রশ্ন: ব্লুচিজ-এর রিটেইল স্টোরগুলোর অভিজ্ঞতাকে আপনি কীভাবে ভাবেন?
ফজলে রাব্বি: আমি চাই ব্লুচিজ স্টোরে ঢুকলে কাস্টমার যেন স্বস্তি অনুভব করেন। এটি কেনাকাটার জায়গা; কিন্তু একই সঙ্গে সময় কাটানোর একটি অভিজ্ঞতা। আলো, স্পেস ও টিমের আচরণ– সবকিছু মিলিয়েই এই অনুভূতি তৈরি হয়।
প্রশ্ন: একটি নতুন স্টোর পরিকল্পনার সময় আপনি কোন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেন?
ফজলে রাব্বি: লোকেশন, সেখানকার মানুষের জীবনযাপন এবং তাদের গল্প– এই তিন বিষয় আমি একসঙ্গে দেখি। কারণ একটি স্টোর কেবল ডিজাইন দিয়ে নয়; মানুষের মাধ্যমেই জীবন্ত হয়ে ওঠে।
প্রশ্ন: সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ডেটা ও মানুষের অভিজ্ঞতার ভারসাম্য কীভাবে রাখেন?
ফজলে রাব্বি: ডেটা আমাকে দিকনির্দেশনা দেয়; কিন্তু মাঠের মানুষের অভিজ্ঞতা বাস্তবতাকে দেখায়। আমি চেষ্টা করি এই দুইয়ের মধ্যে একটি সুস্থ ও কার্যকর ভারসাম্য বজায় রাখতে।
প্রশ্ন: ব্লুচিজ-এর এক্সপানশনকে আপনি কীভাবে সংজ্ঞায়িত করেন?
ফজলে রাব্বি: আমার কাছে এক্সপানশন মানে শুধু স্টোর সংখ্যা বাড়ানো নয়। এটি নতুন মানুষের জীবনে ব্র্যান্ডটিকে যুক্ত করার একটি প্রক্রিয়া– যা ধীরে ও সচেতনভাবে হওয়া উচিত।
প্রশ্ন: টিমের ওপর বিশ্বাস তৈরি হয় কীভাবে?
ফজলে রাব্বি: বিশ্বাস আসে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে। যখন মানুষ অনুভব করে যে তাদের ওপর ভরসা করা হচ্ছে, তখন তারা নিজেরাও সেই আস্থার যোগ্য হয়ে উঠতে চায়।

প্রশ্ন: একজন সিওও হিসেবে কোন সিদ্ধান্তগুলো আপনাকে সবচেয়ে বেশি ভাবায়?
ফজলে রাব্বি: যে সিদ্ধান্তগুলো মানুষের জীবনের ওপর প্রভাব ফেলে– কাজ, পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ– সেগুলো আমাকে সব সময় গভীরভাবে ভাবায়।
প্রশ্ন: তরুণ প্রজন্মের লিডারদের জন্য আপনার একটি পরামর্শ কী?
ফজলে রাব্বি: ধৈর্য ধরুন এবং মানুষকে গুরুত্ব দিন। ভালো নেতৃত্ব সময় নিয়ে তৈরি হয়; রাতারাতি নয়। মানুষকে বোঝার ক্ষমতাই সবচেয়ে জরুরি।
প্রশ্ন: আগামী দিনে ব্লুচিজকে আপনি কোন জায়গায় দেখতে চান?
ফজলে রাব্বি: আমি চাই ব্লুচিজ এমন একটি ব্র্যান্ড হোক, যেটি কেবল পণ্যের জন্য নয়; বরং তার মান, রিটেইল এক্সপেরিয়েন্স ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য মনে রাখা হবে। একই সঙ্গে আগামীর বিশ্ববাজারে একটি বলিষ্ঠ আন্তর্জাতিক উপস্থিতি তৈরি করবে।
- ক্যানভাস অনলাইন
ছবি: ব্লুচিজ-এর সৌজন্যে

