skip to Main Content

ফিচার I নিউ ইয়ার নিউ প্রেশার

নতুন বছর এলেই কি মনে হয়, আত্ম-উন্নতির জন্য এটিই উপযুক্ত সময়? আপনি একা নন; এই দলে অনেকে আছেন। এই চাপ উপলব্ধির এবং তা সামলানোর পরামর্শ রত্না রহিমার

পরিসংখ্যান বলে, বিশ্বের বেশির ভাগ মানুষ নববর্ষের সংকল্প পালনে অটুট থাকতে পারে না। তবু প্রতিবছর প্রায় সবাই নিজেদের কথা দেয়, এবারের সময় ভিন্ন হবে। আগে যা করতে পারেনি, নতুন বছরে তা অবশ্যই শুরু করবে! পড়াশোনা থেকে শুরু করে নিজেকে পাল্টে ফেলা, ফেসবুকে সময় কমানো, ডায়েট শুরু করা—কত কিছুই না নিউ ইয়ার রেজল্যুশনে থাকে। তারপর কী হয়? এক-দেড় মাস এই সংকল্পে অটুট থাকার প্রাণপণ চেষ্টা! দু-একজন যে ব্যতিক্রম থাকেন না, তা নয়; বাকিরা মোটামুটি একই পথে। সংকল্প ভাঙার অপরাধে কিছুক্ষণের জন্য নিজের ওপর রাগ হয়। তারপর একসময় সবকিছু স্বাভাবিক। অপেক্ষা পরের বছরের জন্য!
কেন এমন হয়? গবেষকদের ধারণা, নববর্ষের সংকল্পগুলো আসলে জীবন পরিবর্তনের জন্য নয়; বরং স্রেফ একটি চমৎকার রেওয়াজ। নিজেকে চ্যালেঞ্জ করা এবং তাতে কতক্ষণ টিকে থাকা সম্ভব—এই পরীক্ষায় বেশির ভাগ মানুষ মজা পায়। তাহলে কি ধরে নেওয়া যায়, এই যে ‘নতুন বছর, নতুন আমি’ ধারণা, একে পরিত্যাগের সময় এসেছে?
বিষয়টি ব্যাখ্যা করা যাক। অনেকে জানুয়ারিকে জীবনের রিসেট বোতাম টিপে দেওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখেন। এ সময়কে মনে হয় আগের বছরের মন্দ ঘটনাগুলো পেছনে ফেলে নতুন শুরুর উপায় হিসেবে। তাই নতুন বছরে কী করতে চাই বা চাই না, তার একটি তালিকা তৈরি করে নিজেকে সেরা সত্তায় রূপান্তরকরণের চেষ্টা চলে। কিন্তু একটু গভীরে ভাবলে বোঝা যাবে, মানুষ অ্যালার্ম ঘড়ি বা ব্রডব্যান্ড বক্স নয়। আমরা জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘দ্য গুড প্লেস’ বা ‘ইটারনাল সানশাইন অব দ্য স্পটলেস মাইন্ড’-এর কোনো চরিত্র নই। আমাদের অস্তিত্বের কোনো রিবুট, কোনো জাদুকরি যন্ত্র নেই, যা সব ব্যর্থতা বা বেদনার স্মৃতি পলকে মুছে ফেলতে পারবে। মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, নিউ ইয়ার রিসেট এত আকর্ষণীয় হওয়ার কারণ, এটি নিজেকে সুইচ বা বড় লাল বোতামের মতো উপস্থাপন করে, যা আগের বছরের নেতিবাচক সবকিছু মুছে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তাই এটি টেকসই হয় না। যেমন হঠাৎ আসে, আবার উবে যায়। এই সংকল্পে সাফল্যের হার তাই ন্যূনতম।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একজন মানুষ যখন নিজের গত হয়ে যাওয়া সব খারাপ কিছু বিবেচনায় নিয়ে, সেগুলোর ভিত্তিতে নিজেকে গড়ার চেষ্টা চালান, তখন তিনি মানসিকভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠেন। সঠিক পরিবর্তন একটি সক্রিয়, জীবন্ত বিষয়; এমন কোনো নাটকীয় সিদ্ধান্ত নয়, যা ইচ্ছা করলেই বাস্তব করা সম্ভব। একজন নতুন আপনি, বিশেষ করে জানুয়ারি মাসে যখন আপনাকে এমন ট্যাগ করা হয়, তা ইঙ্গিত দেয়, নিজেকে পুনর্নবীকরণ ও উন্নত করার জন্য নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। এটি হয় সফল হতে অনেক চাপ তৈরি করে, নয়তো পিছিয়ে দেয়। অবচেতন মন কিন্তু সব সময় জানে, নববর্ষের সংকল্পগুলো ধরে রাখা কঠিন। নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে বছরটি হয়তো ঠিকভাবে শুরু সম্ভব; কিন্তু সময় এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যেতে থাকি। তাই নিজের জন্য কেন এই লক্ষণগুলো তৈরি করছেন, তা প্রথমে বিবেচনা গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তবসম্মত নববর্ষের সংকল্প তৈরি করা ব্যর্থতা বা হতাশার অনুভূতি প্রতিরোধ করে সারা বছর অনুপ্রাণিত রাখতে পারে।
নববর্ষের সংকল্পগুলো সাধারণত নেতিবাচক দিকগুলো পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। নিজের প্রতি এত কঠোর হওয়ার কী দরকার? বরং জীবনে যা ভালো চলছে এবং যা করতে চান, সেসব বিষয়ে চিন্তাভাবনা করার সময় বের করা তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিটি ছোট ছোট পদক্ষেপের সঙ্গে নিজেকে অভিনন্দন জানানোর চর্চা করা মঙ্গল। ধরুন, আপনার নববর্ষের সংকল্প যদি ওজন কমানো হয়, তাহলে প্রতিবার ব্যায়াম করা বা জিমে যাওয়ার সময় নিজেকে অভিনন্দন জানানো অনুপ্রেরণার সহায়ক হতে পারে। হয়তো হাস্যকর মনে হবে, তবে এমন ক্ষুদ্র পদক্ষেপগুলো লক্ষ্যে পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ; যদিও পরিবর্তন রাতারাতি ঘটবে না!
নিজের কাছে পরিচালনাযোগ্য ও প্রেরণাদায়ক মনে হয়, প্রতিদিনের একটি উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা যেতে পারে। যেমন ঠিক করলেন, আজ আপনার উদ্দেশ্য হলো ধৈর্য ধরা এবং কাজে কোনো প্রকার তাড়াহুড়ো না করা। তাই সেদিন কোনো চাপ না নিয়ে নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করতে পারেন। বাইরের সতেজ বাতাসে শ্বাস নিয়ে, অত্যন্ত জরুরি কাজের আগেও দুই মিনিট চোখ বন্ধ করে, নিজেকে রিল্যাক্স রাখার চর্চা বেশ কাজে দেবে।
নববর্ষের সংকল্পগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জীবন সম্পর্কে আরও অনুপ্রাণিত এবং ইতিবাচক হয়ে ওঠাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। আমরা চাই যেন ভালো থাকি। কঠিন সংকল্প বাদ দিয়ে বরং অন্যদের ক্ষমা করতে, ভালোবাসতে এবং তাদের সম্পর্কে ভালো ভাবতে শুরু করা শ্রেয়। এই পরিবর্তনশীল চিন্তা আপনার চারপাশে ইতিবাচকতা ছড়িয়ে দেবে, পারিবারিক বন্ধনকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। দেখবেন, ভালো থাকছেন।
আসলে এসব উপদেশ খুব জরুরি নয়! জরুরি হলো নিজের চাহিদা ও সামর্থ্য অনুযায়ী এমন সংকল্প নির্ধারণ করা, যা পূরণ করা সম্ভব। সেটি বছরের শুরুতে বা শেষের দিকে, যখনই হোক। সময় নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো আত্ম-শৃঙ্খলা এবং যে লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য সেট করেছেন, তা সংরক্ষণের ইচ্ছা। সুতরাং আজ নয় কাল; লক্ষ্য নির্ধারণ করুন এবং বছরটি সফল করে তুলুন।

ছবি: ইন্টারনেট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back To Top