skip to Main Content

মনোযতন I প্যারাফ্রেনিয়া পীড়ন

একটি নীরব মানসিক ব্যাধি, যা বেশির ভাগ সময় ধরা পড়ে না। কারণ, রোগীদের দেখতে স্বাভাবিক লাগে। বিশেষজ্ঞের পরামর্শে বিশদ জানাচ্ছেন সুবর্ণা মেহজাবীন

প্যারাফ্রেনিয়া বোঝার জন্য আগে জানা চাই, এটি হঠাৎ ভেঙে পড়ার মতো কোনো মানসিক অবস্থা নয়। এতে আক্রান্তজন বাস্তবকে ত্যাগ করেন না; বরং বাস্তবের ওপর ধীরে ধীরে আরেকটি ব্যাখ্যা চাপিয়ে দেন। বাইরে থেকে দেখলে তার জীবন স্বাভাবিক মনে হয়। তিনি কথা বলেন গুছিয়ে, সিদ্ধান্ত নেন যুক্তি দিয়ে; দৈনন্দিন কাজেও ত্রুটি ধরা পড়ে না। কিন্তু মাথার ভেতরে চলতে থাকে আরেকটি ধারাবাহিক গল্প, যেটি তার কাছে বাস্তবের চেয়েও বেশি বিশ্বাসযোগ্য। এই গল্পে পরিচিত মানুষগুলোই ধীরে ধীরে সন্দেহের চরিত্র হয়ে ওঠে। প্রতিবেশী, আত্মীয়, কখনো নিজের সন্তান—সবাই যেন কোনো না কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ! ভয়টা কল্পনার মতো শোনালেও রোগীর কাছে এটি আবেগ নয়; তথ্য। কারণ, নিজের অভিজ্ঞতা, স্মৃতি আর যুক্তি ব্যবহার করেই এই বাস্তবতা নির্মাণ করেন তিনি।
স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান লাইফস্প্রিংয়ের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সাঈদুল আশরাফ কুশল বলেন, ‘প্যারাফ্রেনিয়া রোগীরা বাস্তব থেকে বিচ্ছিন্ন হন না; বরং বাস্তবকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করেন। এই ব্যাখ্যা এতই সুসংগঠিত; ফলে পরিবার প্রথমে বুঝতেই পারে না সমস্যা কোথায়।’ এটিই প্যারাফ্রেনিয়ার সবচেয়ে জটিল দিক। চিৎকার-চেঁচামেচি বা আচমকা ভেঙে পড়া থেকে আবির্ভাব ঘটে না এর; বরং নীরবে ঢুকে পড়ে দৈনন্দিন কথাবার্তার ফাঁকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এ কে এম রেজাউল করিম ব্যাখ্যা করেন, ‘এই রোগে আবেগ বা বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা বড়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। সমস্যা হয় বাস্তবতা যাচাইয়ে। অর্থাৎ, কোন তথ্য সত্য আর কোনটা বিভ্রম—এই যাচাই ক্ষমতা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে।’
বাংলাদেশে বিষয়টি আরও জটিল। কারণ, এখানে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সন্দেহপ্রবণতা বা স্বভাব বদলকে স্বাভাবিক ধরে নেওয়া হয়। ফলে প্যারাফ্রেনিয়া অনেক সময় রোগ হিসেবে চিহ্নিতই হয় না। মানুষটি তখন একা নন; তিনি বাস করেন বাস্তবের ভেতরে তৈরি করা আরেক বাস্তবে, যেখানে ভয় যুক্তিসংগত, আর সন্দেহগুলো অস্বীকার করা যায় না। এ কারণেই সংজ্ঞা দিয়ে প্যারাফ্রেনিয়াকে বোঝা মুশকিল।
বিভ্রম সক্রিয়, যুক্তি অটুট
মানসিক অসুখ বলতে আমরা যে চিত্র কল্পনা করি, সেখানে সাধারণত যুক্তির ভাঙনই আগে চোখে পড়ে। কথাবার্তা এলোমেলো, ভাবনার ধারায় ছেদ, বাস্তবের সঙ্গে সংযোগ হারিয়ে ফেলা—সিজোফ্রেনিয়া সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাগুলো এমনই। কিন্তু প্যারাফ্রেনিয়া সেই পরিচিত কাঠামোর ভেতরে পড়ে না। এখানে বিভ্রম আছে; কিন্তু যুক্তির কাঠামোও অটুট। এতে আক্রান্তজন নিজ বিশ্বাসের পক্ষে যুক্তি দেন। প্রশ্ন করলে গুছিয়ে উত্তর দেন, ঘটনার ধারাবাহিকতা বোঝান, এমনকি নিজ দাবির পেছনে প্রমাণও হাজির করেন। তার কথায় কোনো অসংলগ্নতা থাকে না। শুধু একটি জায়গাতেই ফারাক—যে সিদ্ধান্তে তিনি পৌঁছান, সেটি ভিত্তি বাস্তব নয়, বিভ্রম। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘সিজোফ্রেনিয়ায় চিন্তার কাঠামোই ভেঙে পড়ে। কিন্তু প্যারাফ্রেনিয়াতে কাঠামো থাকে, ভেতরের কনটেন্টটি বিকৃত হয়। তাই এই রোগীদের বাইরে থেকে খুব যুক্তিবাদী মনে হয়।’ বিশদে জানা যায়, সিজোফ্রেনিয়াতে আবেগের প্রকাশ কমে আসে, চিন্তা ছড়িয়ে পড়ে, আচরণে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। প্যারাফ্রেনিয়াতে এসব তুলনামূলকভাবে অনুপস্থিত। বিভ্রম সীমিত থাকে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে; বিশেষ করে সন্দেহ, অনুসরণ, ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে।
অবিসংবাদিত সত্য
প্যারাফ্রেনিয়াতে বিভ্রম কোনো হঠাৎ কল্পনা নয়; বরং ধীরে গড়ে ওঠা একটি মানসিক নির্মাণ। এই গল্পগুলো এক দিনে তৈরি হয় না। খুব ছোট কোনো ব্যাখ্যা, দৃষ্টির ভুল, কারও উচ্চারণভঙ্গি কিংবা পরিচিত আচরণের সামান্য পরিবর্তন থেকেই ঘটতে পারে সূত্রপাত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ব্যাখ্যাগুলো জমতে থাকে, যুক্তির ভেতর ঢুকে পড়ে, আর একসময় পুরো বাস্তবতাকে নিয়ন্ত্রণে নেয়। সাঈদুল আশরাফ কুশল বলেন, ‘প্যারাফ্রেনিয়া রোগীরা বিভ্রমে বিশ্বাস করেন আবেগ দিয়ে নয়, যুক্তি দিয়ে। যা বিশ্বাস করেন, সেটির সঙ্গে মানানসই তথ্যই গ্রহণ করেন। বাকি তথ্য অচেতনে ছেঁটে ফেলেন।’ এই প্রক্রিয়াকে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিতে বলে পক্ষপাতদুষ্ট নিশ্চিতকরণ; যেখানে রোগী শুধু সেই তথ্যই দেখেন, যেটি তার আগে থেকে গড়ে ওঠা বিশ্বাসকে সমর্থন করে। প্যারাফ্রেনিয়াতে এই পক্ষপাতিত্ব ভীষণ শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ফলে বিভ্রম আর সন্দেহের মাঝখানে কোনো ফাঁক থাকে না।
বয়স কি নীরব ট্রিগার
প্যারাফ্রেনিয়া হঠাৎ এসে ধাক্কা দেয় না, এটি বয়সের সঙ্গে সঙ্গে জমতে থাকা কিছু নীরব পরিবর্তনের ওপর ভর করে ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হয়। বয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনগুলো এতটাই স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া হয়, সেগুলো কখন যে মানসিক ঝুঁকির দিকে ঠেলে দেয়, তা বোঝা যায় না। ডা. সাঈদুল আশরাফ কুশলের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের যে অংশগুলো বাস্তবতা যাচাই ও সন্দেহ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে জড়িত, সেগুলোর কার্যকারিতা সূক্ষ্মভাবে কমতে থাকে। কিন্তু এই পরিবর্তন স্মৃতি বা বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতাকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করে না। ফলে মানুষটি ভুলে যাচ্ছেন, এমন লক্ষণ চোখে পড়ে না; অথচ বাস্তবকে ব্যাখ্যার ধরন বদলে যেতে থাকে। ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘লেট-লাইফ সাইকোসিসে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো, মস্তিষ্কের বয়সজনিত পরিবর্তনগুলোকে আমরা রোগ হিসেবে দেখি না। ফলে প্যারাফ্রেনিয়া অনেক সময় আড়ালে থেকে যায়।’ এর সঙ্গে যোগ হয় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সেন্সরি ডিকলাইন। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে চোখে দেখা বা কানে শোনার ক্ষমতা কমে এলে মানুষ আশপাশের তথ্য আংশিকভাবে গ্রহণ করে। এই অসম্পূর্ণ তথ্য থেকে ভুল ব্যাখ্যার জন্ম হয়, যা প্যারাফ্রেনিয়ার ক্ষেত্রে বিভ্রমের বীজ হিসেবে কাজ করে।
একাকিত্বের শত্রুতা
প্যারাফ্রেনিয়াতে বিভ্রম শুধু মস্তিষ্কের ভেতরের জৈব পরিবর্তনের ফল নয়; অনেক সময় তা শক্ত হয় জীবনের বাইরের নীরব শূন্যতা দিয়ে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যখন দৈনন্দিন কথোপকথন কমে যায়, সম্পর্কগুলো সীমিত হয়ে আসে, তখন মানুষ নিজের চিন্তার একমাত্র শ্রোতা হয়ে ওঠে। আর সেই একক শ্রোতাই বিভ্রমকে প্রশ্নহীন করে তোলে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগ মানুষের চিন্তাকে বাস্তবের সঙ্গে টিউন করে রাখে। এই যোগাযোগ ভেঙে পড়লে চিন্তা নিজের ভেতর ঘুরপাক খায়। প্যারাফ্রেনিয়াতে এই ঘুরপাকই বিভ্রমকে আরও তীব্র করে তোলে; বাইরে থেকে আর কোনো সংশোধনী কণ্ঠস্বর থাকে না।
সন্দেহ ও ভীতি
প্যারাফ্রেনিয়ার বিভ্রম সাধারণত এলোমেলো হয় না। এগুলো নির্দিষ্ট কিছু থিমের চারপাশে ঘুরতে থাকে; সবচেয়ে পরিচিত থিম হলো প্যারানয়া। এখানে ভয়টা অজানা কিছু নিয়ে নয়; বরং পরিচিত মানুষ, স্থান আর পরিস্থিতিই হয়ে ওঠে হুমকির উৎস। রোগীর মনে হয়, কেউ তাকে অনুসরণ কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতির পরিকল্পনা করছে। ডা. সাঈদুল আশরাফ কুশল বলেন, ‘প্যারানয়েড ডিল্যুশনে ভয় বাস্তব ঘটনা থেকে নয়, বরং ঘটনার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা থেকে তৈরি হয়। রোগী যা দেখছেন বা শুনছেন, সেটিকে নিজের বিরুদ্ধে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।’ এই সন্দেহ আর ভীতির গল্পে রোগী নিজেকে দেখেন একা; কিন্তু সচেতন। তার বিশ্বাস, যা উপলব্ধি করছেন, অন্যরা সেটি বুঝতে পারছে না। এই অনুভূতিই বিভ্রমকে আরও তীব্র করে তোলে; কারণ, এতে তিনি নিজেকে ভুল নয়, বরং সতর্ক ভাবতে শুরু করেন।
স্মৃতি ও বাস্তবতার অবস্থান
প্যারাফ্রেনিয়ায় স্মৃতি ঠিক থাকে; কিন্তু বাস্তবতা সরে যায়। এর ফলেই এই রোগকে সবচেয়ে বেশি ভুল বোঝা হয়। কারণ, আক্রান্তজন ভুলে যান না; বরং ঠিকঠাক মনে রাখেন। নাম, তারিখ, ঘটনা, সম্পর্কের ইতিহাস—সব পরিষ্কার থাকে। তবু বাস্তব ধীরে ধীরে অন্য দিকে সরে যায়। অধ্যাপক ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘এই রোগে কগনিটিভ ফাংশন মোটামুটি অটুট থাকে। রোগী মনে রাখেন, বুঝতে পারেন, যুক্তি দেন; কিন্তু বাস্তবতার মূল্যায়নের জায়গায় বিকৃতি তৈরি হয়।’ এ কারণে প্যারাফ্রেনিয়াকে ডিমেনশিয়া থেকে আলাদা করে চেনা দুরূহ। বাংলাদেশে বয়স্ক মানুষের মানসিক পরিবর্তন দেখলেই অনেক সময় পরিবার ধরে নেয়, এটি স্মৃতিভ্রংশ। অথচ প্যারাফ্রেনিয়া রোগীরা একই প্রশ্ন বারবার করেন না, কোনো কিছু ভুল জায়গায় রেখে দেন না কিংবা পরিচিত মুখ চিনতে ব্যর্থ হন না; বরং তারা খুব নির্দিষ্ট কিছু বিশ্বাসে আটকে থাকেন।
লক্ষণ ও চিকিৎসা
ডা. সাঈদুল আশরাফ কুশল বলেন, ‘প্রাথমিক লক্ষণ খুব সূক্ষ্ম। রোগীর কথা, হাসি, বাজার করা, আত্মীয়দের সঙ্গে কথোপকথন—সবই ঠিকঠাক থাকে। শুধু কখনো কখনো ছোটখাটো সন্দেহ প্রকাশ পায়। পরিবার সেটিকে স্বাভাবিক পরিবর্তন হিসেবেই নেয়।’
প্যারাফ্রেনিয়ার চিকিৎসা বোঝার সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভ্রান্তি তৈরি হয়—বিভ্রম কি পুরোপুরি ভেঙে পড়ে, নাকি শুধু নিয়ন্ত্রণে থাকে? মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এ রোগের মূল বৈশিষ্ট্য হলো বিভ্রমের দৃঢ়তা। তাই কোনো ওষুধ বা থেরাপি এক রাতের মধ্যে একে সারিয়ে তুলতে পারে না। অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ মূলত রোগীর বিভ্রমকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এগুলো তার দৈনন্দিন কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ কমিয়ে আনে; আতঙ্ক ও সন্দেহের মাত্রা কমায়। তবে রোগীকে পুরোপুরি নতুন বাস্তববোধ দেওয়ার কাজ করে না। এ জন্য থেরাপি ও পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ। ড. সাঈদুল আশরাফ কুশল বলেন, ‘প্যারাফ্রেনিয়াতে ওষুধ কাজ করে; কিন্তু তা মূলত কন্ট্রোল ও ডিসট্রেস কমাতে। রোগীর ভেতরের গল্পকে পুরোপুরি ভুল হিসেবে সরানো সম্ভব নয়। সাইকোথেরাপি এবং ফ্যামিলি ইন্টারভেনশন সেই অসুবিধা মোকাবিলায় সাহায্য করে।’
অধ্যাপক ডা. আবদুল্লাহ আল মামুনের পরামর্শ, ‘প্যারাফ্রেনিয়া রোগীকে শুধু বিভ্রম দিয়ে চিহ্নিত করলে তার পূর্ণ আত্মপরিচয়কে অগ্রাহ্য করা হয়। রোগের সঙ্গে তার পরিচয়ের সমন্বয় ঘটানো প্রয়োজন, যেন তিনি আত্মমর্যাদাবোধ না হারান।’ ড. সাঈদুল আশরাফ কুশল যোগ করেন, ‘স্টিগমা ও আইসোলেশন অধিকাংশ রোগীর অবস্থা আরও জটিল করে। প্যারাফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি যখন সমাজের দৃষ্টিতে অসুস্থ হয়ে ওঠেন, তখন তার আত্মসম্মান ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিবার ও সমাজের সহানুভূতিশীল মনোভাব তার পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’
রোগীর সঙ্গে করণীয়
প্যারাফ্রেনিয়ার রোগীর সঙ্গে যোগাযোগ শুধু কথা বলার বিষয় নয়; এটি নিখুঁত সহানুভূতি ও সতর্কতার খেলা। ভুলভাবে প্রশ্ন কিংবা তর্ক করলে বিভ্রম আরও শক্ত হতে পারে; তাই পরিবারের সদস্যদের আচরণ গুরুত্বপূর্ণ।
 রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন; বাধা দেবেন না।
 বিভ্রমকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করবেন না; বরং তার অনুভূতিকে স্বীকার করে নিন।
 প্রশ্নের উদ্দেশ্য হোক বোঝা; ভুল প্রমাণ করা নয়।
 ছোট কাজের স্বীকৃতি, নিরাপত্তার অনুভূতি দেওয়ার মাধ্যমে সহযোগিতা করুন।
 ফ্যামিলি কাউন্সেলিং বা সিবিটির মতো পদক্ষেপে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুসরণ করুন।
 রোগীর বিশ্বাসকে ভুল বা পাগলামি বলে অবমূল্যায়ন করবেন না।
ড. সাঈদুল আশরাফ কুশল বলেন, ‘ইসপ্যাথেটিক কমিউনিকেশন মানে শুধু সহানুভূতিশীল হওয়া নয়; যুক্তি ও তথ্যের ভারসাম্য বজায় রাখাও। এটি রোগীকে নিরাপদ এবং পরিবারকে সমর্থনমুখী রাখে।’ এই মৃদু, সচেতন ও সহানুভূতিশীল সংলাপ রোগীর দৈনন্দিন জীবনে বিভ্রমের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে, পরিবারের মানসিক চাপ কমায় এবং চিকিৎসাপ্রক্রিয়া আরও সক্রিয় রাখে।

ছবি: ইন্টারনেট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back To Top