skip to Main Content

দেহযতন I হাইড্রেশন বুস্টআপ

নানা কারণে শরীরে দেখা দিতে পারে পানিশূন্যতা। বিশেষত রোজার সময় তা বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ে। তাই হাইড্রেশন বুস্টআপ জরুরি। সেটি করা যেতে পারে সঠিক শরীরচর্চায়ও

স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য সুস্থ থাকা অপরিহার্য। তাই একজন ব্যক্তিমানুষের কাছে নিজের শরীর সবচেয়ে বড় সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। কথায় আছে, শরীর ঠিক তো সব ঠিক। দেহযন্ত্র ভালো থাকলে সবকিছু স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভালো লাগে। মন-মেজাজ থাকে একদম অন পয়েন্ট। আর শরীরের ভারসাম্যের গল্পের বেশ কয়েকটি লিড ক্যারেক্টার রয়েছে, যেগুলো সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক ডায়েট, পর্যাপ্ত ঘুম, হাইড্রেশন আর এক্সারসাইজ। শরীরভেদে সবকিছুর মাত্রা ভিন্ন। তাই নিজের জন্য কোনটা কতটুকু সঠিক, তা বোঝার বিকল্প নেই। বিশেষ করে রোজার দিনগুলোতে কখন কীভাবে কতটুকু ওয়ার্কআউট করলে দেহে হাইড্রেশন ব্যালেন্স বজায় থাকবে, জানা থাকা চাই।
ওয়ার্কআউট ডিলেমা
ওয়ার্কআউট নিয়ে অনেকের মধ্যে দ্বিধা কাজ করে; বিশেষ করে রোজা রাখার সময়। সারা দিন পানি গ্রহণ করা ছাড়া ওয়ার্কআউট কি আদৌ সম্ভব? নাকি এই সময় নিয়মিত দেহচর্চা না করলেও চলবে? বেশির ভাগ সময় আমরা এই ডিলেমায় পড়ে যাই।
আসলে ফিটনেস মানেই নিজেকে ক্লান্ত করে ফেলা নয়; বরং এটি শরীরের সঙ্গে একধরনের বোঝাপড়া। ফাস্টিংয়ের সময় শরীর একটু স্লো হয়ে যায়, আর সেটাই স্বাভাবিক। তাই এই সময়ের ওয়ার্কআউট হওয়া চাই মৃদু, সচেতন এবং শরীরের অবস্থার সঙ্গে মানানসই। সঠিক ভারসাম্য রাখলে শরীরচর্চা তখন চাপ নয়; বরং স্বস্তির অংশ হয়ে ওঠে।
হাইড্রেশন ব্যালেন্স
আমাদের শরীরের বড় একটি অংশ পানি। এটি শুধু তৃষ্ণা মেটানোর জন্য নয়; শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, পেশি সচল রাখে এবং সবচেয়ে জরুরি ব্যাপার হলো, শক্তি ধরে রাখতে সহায়ক। রোজার সময় একটানা দীর্ঘক্ষণ পানি না পেয়ে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই ওয়ার্কআউটের ক্ষেত্রে হাইড্রেশনকে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া শ্রেয়। শরীর যখন পর্যাপ্ত তরল পায়, তখন ব্যায়ামও সহজ লাগে, শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকে এবং ক্লান্তি কম অনুভূত হয়।
টাইমিং ডায়াগ্রাম
বলা হয়, শরীরকে আপনি যে ধাঁচে ঢালবেন, তা ঠিক সেই অনুযায়ী কাজ করবে। যেমন ঘুম থেকে ওঠার সময় নির্ধারণ এবং এর চর্চা করা গেলে, পরবর্তীকালে কোনো অ্যালার্ম ছাড়াই একই সময়ে ঘুম ভেঙে যায়। এর মানে, আমাদের শরীর ডায়াগ্রাম মেনে চলে। ঠিক একইভাবে নিজের ওয়ার্কআউট ডায়াগ্রাম সেট করে নেওয়া চাই। কারণ, রোজার সময় কখন ওয়ার্কআউট করবেন, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। সন্ধ্যার ঠিক আগে হালকা স্ট্রেচিং কিংবা অল্প হাঁটাহাঁটি শরীর সচল রাখে; অতিরিক্ত পানি ক্ষয় ঘটায় না। আবার নৈশভোজের দু-তিন ঘণ্টা পর, যখন শরীর কিছুটা হাইড্রেটেড ও রিলাক্স থাকে, তখন লাইট কার্ডিও বা হালকা স্ট্রেচিং করা যেতে পারে। বিশ মিনিটের হালকা স্ট্রেচিং বডি হাইড্রেশনকে বুস্ট করবে। তবে এ সময় ভারী ওয়ার্কআউট এড়িয়ে চলা মঙ্গল। কেননা, আপনার উদ্দেশ্যও শরীরকে ক্লান্ত নয়, বরং চাঙা করা।
অলটারনেটিভ হাইড্রেশন
হাইড্রেশন মানে শুধু পানি পান করা নয়, ঘামের সঙ্গে শরীর বেশ গুরুত্বপূর্ণ খনিজ হারায়। তাই ফাস্টিংয়ের বাইরের সময়টুকুতে পানির পাশাপাশি এমন খাবার বেছে নেওয়া দরকার, যা শরীরকে ভেতর থেকে সতেজ রাখে। নারকেলের পানি, লেবু পানি, শসা, তরমুজ বা পানিসমৃদ্ধ ফল এ ক্ষেত্রে টনিকের মতো কাজ করে। পাশাপাশি ওয়ার্কআউটের পর শরীরের কর্মপ্রক্রিয়াকে করে তোলে সহজ। তা ছাড়া হালকা স্ট্রেচিং শরীরকে এই হাইড্রেশন শোষণ করতে কাজে দেয়।
ক্যাফেইন কীর্তি
চা বা কফি গ্রহণ অনেকের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের অংশ। ভরদুপুর হোক কিংবা মধ্যরাত, কারও কারও এক কাপ কফি না হলে চলেই না। কিন্তু রোজার সন্ধ্যা বা রাতগুলোতে অতিরিক্ত ক্যাফেইন শরীরকে আরও পানিশূন্য করতে পারে। ফলে ওয়ার্কআউটের সময় দুর্বলতা বা মাথা ভারী লাগার মতো অনুভূতি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই ক্যাফেইন গ্রহণে একটু পরিমিত হওয়া শ্রেয়, যখন আপনার উদ্দেশ্য হাইড্রেশন ব্যালেন্স করা। চা বা কফি পানেই আটকে না থেকে পর্যাপ্ত পানি বা হারবাল পানীয় গ্রহণ শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক।
লিসেন টু ইউর বডি
আমাদের ঠিক কখন কী প্রয়োজন আর কী একদমই দরকার নেই, তা শরীর সবচেয়ে ভালো বোঝে। মজার ব্যাপার হলো, শরীর শুধু বোঝেই না; বরং আমাদের সে ব্যাপারে সিগন্যালও দেয়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, বেশির ভাগ সময় আমরা হয়তো তা বুঝতে পারি না কিংবা বুঝেও এড়িয়ে যাই। দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা, কাজ, ছোটাছুটির মধ্যে চাপা পড়ে যায় শরীরের আর্তনাদ! কিন্তু হাইড্রেশন ব্যালেন্স আনতে এই সিগন্যালকে এড়িয়ে চললে ক্ষতি নিজেরই। কেননা, রোজার দিনগুলোতে মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত দুর্বল লাগা, শ্বাসকষ্ট হওয়ার মতো শারীরিক সতর্কসংকেতগুলো উঁকি দিলে মুহূর্তেই ওয়ার্কআউট বন্ধ করে বিশ্রাম নেওয়া শ্রেয়। কারণ, ফিটনেস মানে নিজের সীমাবদ্ধতা জানা এবং সেটিকে সম্মান করা।
ধারাবাহিকতা = দক্ষতা
লাইফস্টাইল ফিটনেসে নিখুঁতচারী হওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই; বরং ধারাবাহিকতাই মূল দর্শন। ধারাবাহিকভাবে কোনো চর্চা করতে পারলে সেটিই রূপ নেবে সম্পদে। তা হতে পারে স্ট্রেচিং, পুশআপ বা লাইট কার্ডিও। যে দেহচর্চাই বেছে নিন না কেন, ধারাবাহিকতাহীনতায় খুব একটা কাজে আসবে না। রোজার দিনগুলোর ওয়ার্কআউট হয়তো বছরের বাকি দিনগুলোর মতো কঠোর হবে না; আর সেটিই স্বাভাবিক। হালকা ওয়ার্কআউট এবং সঠিক হাইড্রেশনের অভ্যাস—সবকিছু মিলে শরীর ও মনে দারুণ ভারসাম্য এনে দেয়। মনে রাখা চাই, ফাস্টিংয়ের সময় শরীরচর্চা কোনো চ্যালেঞ্জ নয়; বরং সচেতন যত্নের অংশ। নিজের দেহকে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারলে ওয়ার্কআউট হয়ে ওঠে আরামদায়ক।
ফিটনেসের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো, এটি নিখুঁত হওয়ার কোনো প্রতিযোগিতা নয়। প্রতিটি শরীর যেমন আলাদা, তেমনি তাদের গল্পগুলোও ভিন্ন। আর গল্পভেদে চরিত্রের তারতম্য তো মানা চাই-ই। তাই সবকিছুর আগে নিজেকে জানা মঙ্গল। নিজের শরীর কী চাচ্ছে, তা বুঝে নিতে হবে। আর বাকি সব হোক সেই অনুযায়ী।

 দিলজান নাহার চাঁদনী
ছবি: ইন্টারনেট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back To Top