বিশেষ ফিচার I ভাষার মাধুর্য
একুশে ফেব্রুয়ারি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। যার নেপথ্যে ১৯৫২ সালের আমাদের গৌরবময় মহান ভাষা আন্দোলন। ভাষার প্রতি বিশেষ ভালোবাসা নিয়ে লিখেছেন নাঈমা তাসনিম
ভাষা একটি জীবন্ত সাংস্কৃতিক প্রক্রিয়া। এর ভেতরে ইতিহাস, স্মৃতি, ক্ষমতা, আবেগ ও সামাজিক সম্পর্ক পরস্পর জড়িয়ে থাকে। ভাষার অন্তর্গত প্রতিটি শব্দ, বাক্য শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; মানুষের অভিজ্ঞতাকে গড়ে তোলার এক শক্তিশালী প্রক্রিয়া। অতীতের সঙ্গে বর্তমানকে মেলাতে, সামাজিক সম্পর্ক গঠনে এবং ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক অভিজ্ঞতা সঞ্চারে এটি সক্ষম। তবে চলমান বাস্তবতায় ভাষা কখনো কখনো হারিয়ে ফেলছে নিজস্ব কোমলতা, ব্যাকরণ, অলংকার ও মাধুর্য। এই মাধুর্য বুঝতে নৃতত্ত্ব, সাংস্কৃতিক বয়ান, ভাষার গতিশীলতা এবং সমাজে এর প্রভাব—এই চার স্তরকে সমন্বিতভাবে বিশ্লেষণ করা অপরিহার্য।
নৃতত্ত্বের আলোকে ভাষা একটি সম্প্রদায়ের সম্মিলিত স্মৃতির ভান্ডার। প্রতিটি শব্দে লুকিয়ে জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, ভূগোল, পেশা, খাদ্যাভ্যাস, বিশ্বাস এবং সামাজিক সম্পর্কের ইতিহাস। আদিবাসী বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাষায় যে সূক্ষ্ম অনুভূতি এবং জীবনের ঘনিষ্ঠ অভিজ্ঞতার প্রকাশ ঘটে, তাকে প্রমিত বা আধুনিক ভাষায় ভাষান্তর করা অনেক ক্ষেত্রে দুরূহ। বেলারুশে জন্ম নেওয়া মার্কিন ভাষাবিজ্ঞানী লেরা বোরোডিটস্কির মতে, প্রতিটি ভাষা একেকটি মহাবিশ্বের মতো। যখন কোনো ভাষা হারিয়ে যায় কিংবা বিকৃত হয়, তখন জগৎ দেখার একটি অনন্য উপায়ের চিরতরে বিলুপ্তি ঘটে। নৃতত্ত্ব আমাদের শেখায়, ভাষা আদতে যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি সামাজিক চুক্তিও বটে। বাঙালি গ্রামাঞ্চলের আঞ্চলিক উচ্চারণ ও শব্দচয়ন তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয় প্রজন্ম ধরে বহন করে।
সাংস্কৃতিক বয়ানে শক্তি ও প্রতিরোধের ক্ষেত্র হয়ে ওঠে ভাষা। কোন গল্প বলা হবে, কোন শব্দ ব্যবহার করা হবে, কার কণ্ঠ শোনা যাবে—সবই সাংস্কৃতিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আলবেনীয়-ইতালীয় দার্শনিক আন্তোনিও গ্রামসির মতে, একটি শাসক বা প্রভাবশালী গোষ্ঠী শুধু গায়ের জোরে নয়; তারা শাসন করে মানুষের চিন্তার জগৎ নিয়ন্ত্রণ করতে। যখন কোনো নির্দিষ্ট ভাষা বা শব্দচয়নকে বারবার একই ভঙ্গিমায় ফলাও করে প্রচার করা হয়, সমাজ অজান্তেই সেই ভাষাকে গ্রহণ করে। একেই বলে সাংস্কৃতিক আধিপত্য। গ্রামসির তত্ত্ব অনুযায়ী, প্রমিত ভাষা অনেক সময় আধিপত্যের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে, ফলে আঞ্চলিক ভাষার মাধুর্যের অবমূল্যায়ন ঘটে। একইভাবে, কুরুচিপূর্ণ ভাষার বারবার ব্যবহারও ভাষার গতিপথে আধিপত্য বিস্তার করে।
মার্কিন ভাষাবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, দার্শনিক ও সমাজ সমালোচক নোম চমস্কি দেখিয়েছেন, কীভাবে রাষ্ট্র বা গণমাধ্যম ভাষার মাধ্যমে আমাদের চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করে। তিনি এটিকে বলেন ‘রাজনৈতিক ভাষার কারসাজি’। প্রভাবশালীরা এমন সব শব্দ বা বয়ান তৈরি করে, যা শুনতে মধুর কিংবা সময়োপযোগী মনে হলেও এর পেছনে লুকিয়ে থাকে শোষণ। যেমন, যুদ্ধের বদলে ‘শান্তি মিশন’ কিংবা ছাঁটাইয়ের বদলে ‘ডাউনসাইজিং’। যখন ভাষার মাধ্যমে এই সম্মতি তৈরি করা হয়, ভাষার প্রকৃত সত্য ও মাধুর্য হারিয়ে পর্যবসিত হয় প্রোপাগান্ডায়। ঔপনিবেশিক ইতিহাস এই পরিবর্তনের উৎকৃষ্ট উদাহরণ। শাসকেরা স্থানীয় ভাষার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে তার কথ্য মূল্য কমিয়ে দেন, যা সামাজিক স্তর বিন্যাসেও বৈষম্য তৈরি করে। কিন্তু স্থানীয় ভাষার সাহিত্য ও গান প্রায়ই এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের মাধ্যম হয়ে ওঠে। ভাষাকে মুছে ফেলতে পারলে একটি জাতির নিজস্ব বলতে তেমন কিছুই থাকে না।
সমাজে ভাষার প্রভাব বহুস্তরীয়। শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে এটি শ্রেণিবিভাজন তৈরি এবং প্রশাসনিক ভাষা হিসেবে ক্ষমতা নির্ধারণ করে। কোন ভাষা মর্যাদা পাবে আর কোনটি প্রান্তিক হবে, এই সিদ্ধান্ত সামাজিক বৈষম্যকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশের নগর এলাকায় আধুনিক শিক্ষার কারণে প্রমিত বাংলা মর্যাদা পায়, যেখানে আঞ্চলিক ভাষার গুরুত্ব কমে যায়। কিন্তু লোককথা, গান ও প্রবাদবাক্যের মাধ্যমে সমাজ তার অস্তিত্ব ও মূল্যবোধ প্রকাশ করে, যা বয়ানের ভাষা কথ্য আঞ্চলিক। নারীদের ভাষা বা শ্রমজীবী মানুষের কথ্যরীতিই এই বৈচিত্র্যকে বহুমাত্রিক ও প্রাণবন্ত করে তোলে।
ভাষার সাহিত্যিক মাধুর্য এবং সভ্যতার বিকাশে এর ভূমিকা নিয়ে রুশ দার্শনিক ও সাহিত্য সমালোচক মিখাইল বাখতিন বলেছেন, ভাষার সাহিত্যিক মাধুর্য হলো সমাজের শত শত বছরের নানা মানুষের কণ্ঠস্বরের মিলন বা বহুস্বরবাদ। মার্কিন সাহিত্য সমালোচক হ্যারল্ড ব্লুমের মতে, সাহিত্যের ভাষার মাধুর্যই সভ্যতাকে মহত্ত্ব দান করে। আমেরিকান কবি টি. এস. ইলিয়টের মতে, যে ভাষার সাহিত্যিক শক্তি যত বেশি, তত বেশি সেই সভ্যতার সংহতি ও স্থায়িত্ব। ভাষা ওজন হারালে সভ্যতা বিশৃঙ্খলার দিকে ধাবিত হয়। ইংরেজ নাট্যকার উইলিয়াম শেক্সপিয়ার বা বাঙালি সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো লেখকদের ভাষা মানুষের সত্তা নির্মাণ করে এবং মানুষকে উন্নততর স্তরে নিয়ে যায়। সাহিত্যিক ভাষা যখন ব্রাত্যজনের ভাষাকে ধারণ করে, তখনই সভ্যতা গণতান্ত্রিক হয়ে ওঠে। ফ্রেঞ্চ-আমেরিকান সাহিত্য সমালোচক, প্রাবন্ধিক ও দার্শনিক জর্জ স্টেইনার, যিনি বিশ্বের অন্তত চারটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন, তিনি তার ‘আফটার ব্যাবেল’ বইয়ে লিখেছেন, যখন অমানবিক সভ্যতা গড়ে ওঠে, তখন ভাষার মাধুর্য হারিয়ে যায় এবং ভাষা শুধু আজ্ঞাবহ হওয়ার হাতিয়ারে পরিণত হয়। একটি সভ্যতার নৈতিক মান বজায় থাকে তার ভাষার সাহিত্যিক গভীরতায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা ও গল্পে যেমন শব্দের সৌন্দর্য এবং সামাজিক জটিলতা একত্রে ফুটে ওঠে। তার সাহিত্যিক ভাষা মানুষের অনুভূতি, চিন্তা এবং স্বপ্নকে সৃজনশীল মাত্রা দেয়।
ভাষা কখনো স্থির নয়। এটি সময়ের সঙ্গে বদলায়, নতুন শব্দ গ্রহণ করে এবং নতুন অর্থের জন্ম দেয়। প্রযুক্তি, অভিবাসন ও বৈশ্বিক যোগাযোগ ভাষার গতি ত্বরান্বিত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাষা ক্রমেই সংক্ষিপ্ত ও চিহ্নভিত্তিক হয়ে উঠছে। তা ছাড়া প্রযুক্তির প্রভাবেও ভাষার বিবর্তন দ্রুততর হচ্ছে। আন্তর্জাতিক যোগাযোগের কারণে নতুন শব্দ ও অডিও ভিজ্যুয়াল মাধ্যমের ব্যবহার ভাষার গতিকে বৈচিত্র্যময় করেছে। এখানে ভাষার মাধুর্য প্রতিফলিত হয় তার অভিযোজনশীলতায়, যেখানে পুরোনো ও নতুন মিলিত হয়ে মানুষের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করে। ভাষার এই পরিবর্তনের পেছনে বিশদে কাজ করে তিনটি প্রধান কারণ।
প্রথমত, সামাজিক ও ভৌগোলিক প্রভাব তথা স্থানান্তর ও অভিবাসন। যখন এক অঞ্চলের মানুষ কাজের প্রয়োজনে বা বাসস্থানের জন্য অন্য অঞ্চলে স্থানান্তরিত হয়, তখন তাদের আদি ভাষার সঙ্গে নতুন অঞ্চলের ভাষার সংমিশ্রণ ঘটে। নতুন পরিবেশের ভূপ্রকৃতি, আবহাওয়া ও খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে মানুষ নতুন শব্দ তৈরি করে। স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় অনেক বিশেষায়িত শব্দ হারিয়ে যায় বা রূপান্তরিত হয়। অভিবাসনের ফলে অনেক সময় পরবর্তী প্রজন্মের কাছে মূল ভাষার মাধুর্য ম্লান হয়ে যায় এবং তারা একধরনের সংকর ভাষায় কথা বলতে শুরু করে, যা দীর্ঘ মেয়াদে ভাষার গঠনে মৌলিক পরিবর্তন আনে।
দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তি ও যোগাযোগের প্রভাব। বর্তমান যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্তর্জালে দ্রুত যোগাযোগের প্রয়োজনে মানুষ শব্দকে সংক্ষেপ করছে। দীর্ঘ বাক্য বা আবেগ প্রকাশের জায়গা দখল করে নিচ্ছে ইমোজি বা স্টিকার, ফলে ভাষার গাম্ভীর্য বা সাহিত্যিক মাধুর্য অনেক ক্ষেত্রে যান্ত্রিক ও আবেগহীন হয়ে পড়েছে। এখনকার তরুণ প্রজন্ম ইন্টারনেটে যেসব ডিজিটাল স্ল্যাং বা মিম সংস্কৃতি ব্যবহার করছে, সেগুলো ভাষার ব্যাকরণগত কাঠামোকে অগ্রাহ্য করে নতুন ধারা তৈরি করেছে বাংলা ভাষায়। কি-বোর্ড বা ভয়েস চ্যাটের কারণে বাংলা ও ইংরেজি শব্দের মিশ্রণে জন্ম নিয়েছে ‘বাংলিশ’। এই ট্রেন্ড ইতিমধ্যে মূল ভাষার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যকে মোটামুটি বদলে দিয়েছে।
তৃতীয়ত, রাজনৈতিক ও শিক্ষাগত প্রভাব। রাষ্ট্রে যখন কোনো নির্দিষ্ট ভাষাকে প্রশাসনিক বা দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে বাধ্যতামূলক করা হয়, তখন অন্য আঞ্চলিক ভাষা বা উপভাষাগুলো অবহেলিত হতে থাকে। ক্ষমতার দাপটে মানুষ সেই প্রমিত ভাষাকেই অভিজাত কিংবা সঠিক ভাষা মনে করে এবং নিজ ভাষার মাধুর্যকে গণ্য করে অশুদ্ধ ও অপ্রাসঙ্গিক হিসেবে। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে শিক্ষাব্যবস্থায় ইংরেজি বা অন্য কোনো বৈশ্বিক ভাষা যখন প্রাধান্য পায়, তখন মাতৃভাষায় উচ্চতর জ্ঞানচর্চা ও সাহিত্যিক রস আস্বাদনের সক্ষমতা কমে যায়। এই প্রক্রিয়ায় সমাজে একধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ভাষার স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে।
ভাষার মাধুর্য যখন বিকৃত হয় কিংবা এর শৈল্পিক গভীরতা কমে আসে, তখন এর প্রভাব শুধু ব্যাকরণ বা অভিধানে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং সমাজ ও সভ্যতার মূলে আঘাত হানে। সাংস্কৃতিক স্তরে এই বিকৃতির প্রভাব অত্যন্ত গভীর। ভাষার স্বকীয়তা হারিয়ে গেলে লোকসংগীতের যে চিরন্তন আবেগ বা প্রবাদের যে গূঢ় জ্ঞান, তা উত্তরসূরিদের হৃদয়ে আর স্পন্দন তৈরি করতে পারে না। ফলে একটি জাতি তার নিজস্ব সাংস্কৃতিক শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং বিশ্বায়নের স্রোতে সেই স্বতন্ত্র পরিচয় বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।
সামাজিক ও মানসিক স্তরে ভাষার বিকৃতি মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও অনুভূতির প্রকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ভাষা কি শুধু তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যম? বিশারদেরা বলেন, ভাষা সূক্ষ্ম আবেগ প্রকাশের একমাত্র সেতু। যখন ভাষায় শব্দের গভীরতা কমে যায় এবং মানুষ অতিমাত্রায় সংক্ষিপ্ত বা যান্ত্রিক শব্দে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, তখন তাদের মধ্যে সহমর্মিতা, সংবেদনশীলতা এবং সামাজিক সূক্ষ্মতা প্রকাশের ক্ষমতা কমে যায়। মাতৃভাষার এই বিকৃতি শিশুর মানসিক ও সৃজনশীল বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। শিশু নিজের চিন্তা প্রকাশের মতো গভীর ও সমৃদ্ধ শব্দ খুঁজে না পেলে তার কল্পনাশক্তি সীমিত হয়ে পড়ে এবং অনুভূতিগুলো স্পষ্টভাবে বিশ্লেষণে ব্যর্থ হয়।
বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে ভাষার মাধুর্য রক্ষা করা শুধু ঐতিহ্যপ্রীতির বিষয় নয়; এটি আমাদের জাতীয় অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার প্রধান শর্ত। ভাষার মাধুর্য রক্ষা মানে আমাদের ইতিহাস ও মাটির গন্ধ সুরক্ষিত করা। ভাষার মর্যাদা রক্ষায় জীবন দিতেও কুণ্ঠাবোধ না করতে আমাদের শিখিয়ে গেছেন মহান ভাষাশহীদেরা। স্বদেশের প্রেক্ষাপটে যদি আমরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভাষার স্তরগুলোকে রক্ষা করতে পারি, তবেই আমাদের সভ্যতা মানবিক ও প্রাণবন্ত থাকবে। এটি প্রত্যেক নাগরিকের হৃদয়ের দায়বদ্ধতা; কেননা ভাষার মাধুর্য হলো মানুষের সমষ্টিগত জীবনের প্রতিফলন। নৃতত্ত্বের চোখে ভাষা সংস্কৃতির দলিল, সাংস্কৃতিক বয়ানে ক্ষমতার প্রকাশ এবং সমাজে প্রভাব বিস্তারের এক শক্তিশালী মাধ্যম। ভাষাকে বোঝা মানে মানুষকে বোঝা। এর মাধুর্য সংরক্ষণ করা মানে মানুষের ইতিহাস, আবেগ, সমাজ ও সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশকে সুরক্ষা দেওয়া।
পরিবর্তন স্বাভাবিক; তবে ভাষার সৌন্দর্য, গভীরতা ও অভিযোজন ক্ষমতা সচেতনভাবে রক্ষা করার মাধ্যমে আমরা সভ্যতার ঐতিহ্য, জ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি চিরস্থায়ী করতে পারি।
অলংকরণ: দিদারুল দিপু
