সঙ্গানুষঙ্গ I পিন ইট আপ
হিজাব পিন। মডেস্ট ফ্যাশন অনুষঙ্গ। প্রয়োজন থেকে ব্যবহারের সূত্রপাত। তারপর বদলেছে অনুষঙ্গটির অভিপ্রায়। ব্যবহারিক ক্ষমতা বলবৎ রেখেই এসেছে দৃষ্টিনন্দন পরিবর্তন। মিশেছে ব্যক্তিগত স্টাইল চর্চায়। হয়ে উঠেছে মডেস্ট ফ্যাশন ধারার অন্যতম স্টাইল স্টেটমেন্ট
ছোট্ট অথচ ভীষণ দরকারি। হিজাব যাদের প্রধান অনুষঙ্গ, তাদের জন্য তো মাস্ট। উদ্দেশ্য—পারিপাট্য। কর্মব্যস্ত দিনে দ্রুত হিজাব স্টাইলিং; আর বিশেষ দিনে হিজাব ফ্যাশনিংয়ের জন্য চাই নানা রকম পিন। একেক সময় একেকটি। সহজে ব্যবহার করা যাবে। ফ্যাশনও হবে ঠিকঠাক। প্রকাশ করবে অভিরুচি। সাদামাটা জরুরি নয়। থাকতে পারে নানা রং ও নকশা। আত্মপ্রকাশের অনুষঙ্গ। সাধারণ পিন থেকে অ্যাসথেটিক পিন। গয়নার মতোই, কখনো মিনিমাল, কখনো ম্যাক্সিমাম!
নিত্যনৈমিত্তে
হিজাব পরার শুরুটা সাধারণত হয় সেফটি পিন দিয়ে। তারপর চলে নানা সুবিধাজনক কৌশলের খোঁজ। সঠিক পিন বাছাই এবং তা ব্যবহারের উপায়গুলো ধীরে ধীরে আয়ত্তে আসে। পিয়ার শেপের ছোট সেফটি পিন ব্যবহার করেন অনেকে। হুটহাট খুলে গিয়ে রয়েছে খোঁচা লাগার ভয়। দেখতেও আকর্ষণীয় নয়। হিজাবের পিন নিয়ে জল্পনাকল্পনার শুরু এখানেই। পিনগুলোকে আরও কার্যকর ও সহজ করাই উদ্দেশ্য।
একসময় সেফটি পিন বদলে লম্বাটে সোজা পিন দিয়ে হিজাব পরতে শুরু করেন হিজাবিরা। মেনিকিনের গায়ে মেপে পোশাকের স্ট্রাকচার তৈরি করার সময় ফ্যাশন ডিজাইনারদের ব্যবহার করা এই অনুষঙ্গের নাম ড্রেসমেকারস পিন। কেউ কেউ স্ট্রেইট পিনও বলেন। সহজে আটকে যায় হিজাবে। হিজাব সেট করে গুঁজে দিলেই হলো। হেডের ছোট্ট অংশটি বাদে অদৃশ্য হয়ে যায় পুরো পিন। শক্ত করে আটকে রাখে হিজাব। পরিপাটি থাকে দীর্ঘক্ষণ। এ পিন তাই হিজাবিদের শীর্ষ পছন্দ; বিশেষ করে মিনিমালিস্টদের। যারা শুধু হিজাবটাই পরেন, অতিরিক্ত কিছু নয়। একটি বা দুটি পিনই যথেষ্ট।
পিনের অলংকরণ
স্ট্রেইট পিন ব্যবহার করলে হিজাবের ওপর দিয়ে দেখা যায় পিন হেড। রং ও নকশার কাজ সেখানেই। প্লাস্টিক দিয়ে করা হয় ফুল, পাতা, পুঁতি ইত্যাদির এমবেলিশমেন্ট। এ ধরনের পিনগুলোকে প্লাস্টিক কোটেড পিন বলা হয়। পাওয়া যায় ছোট, মাঝারি ও বড় মাপে। দামেও সাশ্রয়ী। ক্রিস্টাল, পাথর, জেমস্টোন বসানো পিনও দেখা যায়। কাপড়ের এমবেলিশমেন্টও থাকে। ট্রেন্ডে আছে বো পিন। হিজাব পিনে দেখা যায় সুতার কাজের নকশাও। হিজাবে চার্মস ব্যবহার ভালোবাসেন অনেকে। ব্যক্তিগত রুচি ফুটে ওঠে তাতে। সাধারণ সেফটি পিনেও দেখা যায় রং-নকশার ছড়াছড়ি। হিজাবের ওপর বেশ সুন্দর মানায়। এসবই ডেকোরেটিভ পিন। নকশার কোনো শেষ নেই।
গো পিনলেস
আরাম নিশ্চিত করে হিজাব পরার প্রচেষ্টা অনেক দিনের। সুরক্ষাও দরকারি। কারণ, একটানা অনেকক্ষণ হিজাব পরে থাকেন অনেকে। পিনের সূক্ষ্ম আঘাত পাওয়ার অভিজ্ঞতা আনকোরা নয়। এমন পরিস্থিতিতে পিন ছাড়া হিজাব পরার চেষ্টা করেন কেউ কেউ। কিন্তু এভাবে এই অনুষঙ্গকে পরিপাটি রাখা কঠিন। তাই পিনলেস হিজাবের সল্যুশন হিসেবে হিজাব ম্যাগনেট আছে আলোচনায়। পিনের বদলে এক জোড়া চুম্বক পাথর দিয়ে আটকে নেওয়া যায় হিজাব। পাওয়া যায় বিভিন্ন রং ও আকারে।
হিজাব পরার আরেকটি পিনলেস অপশন লুপ পিন। গলার কাছে সেফটি পিনের বদলে এই পিন দিয়ে সহজে আটকে নেওয়া যায় হিজাব। নেই খোঁচা লাগার ভয়।
ফিরে আসা ব্রোচ
যেভাবে ইচ্ছা, সেভাবেই পরা যায় ব্রোচ। যেকোনো আয়োজনে একটি-দুটি ব্রোচে তৈরি করা যেতে পারে ড্রেসি লুক। ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তোলে সাজপোশাকে। পরিশীলনের প্রতীক যেন। ব্রোঞ্জ যুগে আবিষ্কৃত এই অনুষঙ্গের ব্যবহারকে নতুন মাত্রা দিয়েছে হিজাব স্টাইলিং। হিজাবের ব্রোচ সাধারণ দিনে কিংবা উৎসব আয়োজনে অল্পেই পারফেক্ট লুক পাওয়ার কৌশল। হাজারো নকশা থেকে বেছে নিয়ে নিজের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই ব্রোচ কেনা যেতে পারে। প্রতীকী ব্রোচ সিগনেচার স্টাইল তৈরি করে। নিজের নাম লেখা, নামের আদ্যক্ষর বা পেশার সঙ্গে মিলিয়ে ব্রোচ পরতেও দেখা যায়। কখনো থাকে প্রিয় ফুলও। উৎসব আয়োজন থেকে বিয়েবাড়ি, ঝলমলে ব্রোচেই পূর্ণতা পায় হিজাব লুক। বিয়েতে হিজাবি কনেরাও সাজতে পারেন ব্রোচ যোগে। হিজাবের সঙ্গে মাথায়, কানে ও গলায় আঁটসাঁট গয়নার বদলে মানানসই ব্রোচ ইন ট্রেন্ড। এতে অল্পেই জমকালো হয়ে উঠবে সাজ।
মিনিমালিজম বনাম ম্যাক্সিমালিজম
‘যত কম, ততই ভালো’, এমনটাই দাবি মিনিমালিস্টদের। যতটুকু প্রয়োজন, ঠিক ততটুকুই ব্যবহার করেন তারা। একটি কি দুটি পিন; আর এক পাশে একটি ব্রোচ। ব্যস! অল্পেই নিখুঁত হিজাব লুক। অন্যদিকে, যতটা বেশি সম্ভব, ততটাতেই বিশ্বাসী ম্যাক্সিমালিস্টরা। লেয়ারিং করে পরা হিজাবে ব্যবহার করেন একাধিক পিন। লেয়ারিং ব্রোচ পরতে ভালোবাসেন তারা। হিজাবের ওপরে পরেন চুলের ক্লিপ। দেখায়ও বেশ এলিগেন্ট। মিনিমাম বা ম্যাক্সিমাম—দুভাবেই পিন ব্যবহার করা যেতে পারে হিজাবে। সবটাই ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য।
পিন কুশন
হিজাব পরার সময় একটি পিন দুই ঠোঁটের মাঝখানে রেখেছিল ১৫ বছর বয়সী এক ভারতীয় কিশোরী। অবচেতনেই গলার ভেতর চলে যায় পিনটি। আটকে যায় ফুসফুসের কাছে। ঘটনাটি ঘটেছে চলতি বছরের জানুয়ারিতে। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেই পিন বের করা হয়। এমন দুর্ঘটনার উদাহরণ একাধিক। এড়াতে সাবধানতা জরুরি। হিজাব পরার সময় পিন মুখে বা ঠোঁটে রাখা বিপজ্জনক। এর বদলে ব্যবহার করা যেতে পারে পিন কুশন। হাতের তালুর সমান একটি ছোট্ট নরম বালিশ, যাতে পিনগুলো গুঁজে রাখা যায়। হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে না। হিজাব পরার সময় হাতের কাছে পাওয়া যায়। চট করে পরে নেওয়া সম্ভব। বাঁচে সময়ও।
পূর্ণতা দেবে, কিন্তু ছাপিয়ে যাবে না। সিম্পল হতে হবে, তা-ও নয়। যেভাবে চাই, সেভাবেই পিনআপ করা যেতে পারে হিজাব। কারণ, মডেস্ট ফ্যাশনের ধারায় গুরুত্ব পায় ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য। হিজাবে পিন কিংবা ব্রোচ—সুবিধার সঙ্গেই ফ্যাশনকে জুড়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা।
আবৃতি আহমেদ
মডেল: অ্যানি
মেকওভার: পারসোনা
ওয়্যারড্রোব: তাহুর
ছবি: জিয়া উদ্দীন
