ফিচার I ট্রপিক্যাল লেয়ারিং
দেশে পরিচিতি পেয়েছিল উইন্টার ওয়্যার হিসেবে। শহুরে শীতে কেমন ড্রেসআপ স্বস্তিদায়ক হবে, সেই ধারণা থেকে প্রিয় হয়ে ওঠে। স্প্রিং ওয়্যার হিসেবেও যে মন মাতাবে, এমন খবর সূচনা অধ্যায়ে ছিল না
বারো মাসই লেয়ারিং ফ্যান দেখা যায়। আগে কিশোরীদের মধ্যে কটি পরে লেয়ারিংয়ের চল ছিল। গেল শতকের শেষ দশক থেকে চলতি শতকের প্রথম দশক কটি দেখা গেছে নানাভাবে। এরপর ২০০৫ সাল থেকে সামার কোট বাজার জমিয়ে রেখেছিল দীর্ঘদিন।
লেয়ারিং ক্লদিং ফিলোসফির শুরুয়াত মোটেই এই দেশে নয়। ভিনদেশে। শোনা যায় মিসরের নাম। সেখান থেকে পাশ্চাত্য ও মধ্যপ্রাচ্য। দুই আলাদা অংশে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ত্বককে তাপমাত্রা থেকে রক্ষার চাহিদায়। পাশ্চাত্যের হাঁড়কাপানো শীত আর মধ্যপ্রাচ্যের পিচ গলা উষ্ণতা। লেয়ারিং ছিল ফ্যাশন কম; প্রয়োজন বেশি।
বিশ্ব ফ্যাশন কোনো কিছুকে দূরে রাখে না। সবার মাঝে পরিচয় করিয়ে দেয়। এটিও তা-ই। আবার এই দেশের তাপমাত্রা বেড়েছে গত কয়েক দশকে। মডেস্ট ফ্যাশনের কলেবর বেড়ে সেই স্রোত ছুঁয়ে গেছে বাংলাদেশকে। লেয়ারিং তাই এখন ফ্যাশনের অংশ। আমাদের দেশে শীতের স্থায়িত্ব কমেছে। পুরো বছরে শুধু নভেম্বর থেকে জানুয়ারিতে দেখা মেলে। ফাল্গুনের মন কেমন করা হাওয়ায় হিম হারায় পুরোটাই। এই সময়ের ফ্যাশনে রাজত্ব করে লেয়ারিং। চাইলে চলতে পারে বারো মাসই। সে জন্য জানা চাই ট্রপিক্যাল লেয়ারিংয়ের কায়দা। ইন্টেনশনাল স্টাইলিং, ফ্যাব্রিক ইন্টেলিজেন্স আর ভিজ্যুয়াল ব্যালেন্সে হতে পারে বাজিমাত।
বেসিক বেজমেন্ট
ট্রপিক্যাল লেয়ারিংয়ের ক্লাসে ফ্যাব্রিক ফার্স্ট গার্ল। তারপরে বাকি সব। হিউমিড ক্লাইমেটে প্রথম লেয়ারই নির্ধারণ করে, বাকি পোশাকের ভাগ্য কেমন হবে। একেবারেই মন উঠবে তার থেকে, নাকি ভাব জমবে। তাই আর্দ্রতা শুষে নিতে সক্ষম—এমন ফ্যাব্রিকে ফাউন্ডেশন তৈরি করা যুক্তিযুক্ত। বাতাস চলাচল করে স্বচ্ছন্দে, এমন। নাম নেওয়া যেতে পারে সুতি, খাদি, ভয়েল এবং লিনেনের। তবে পুরোটাই যেন প্রাকৃতিক আঁশে তৈরি হয়, সেই নিশ্চয়তা চাই। ফিনিশিংয়ের নামে সামান্যতম পলিয়েস্টারের উপস্থিতিও দেহকে অস্বস্তি দিতে পারে। ডিজাইনে স্লিভ খুব গুরুত্বপূর্ণ। স্লিভলেস থেকে শর্ট স্লিভ—দুই-ই চলবে। ত্বকের সঙ্গে যেহেতু এই লেয়ার স্পর্শ করে থাকবে, তাই এই পার্টের ফ্যাব্রিক ও সেলাই—উভয়ই সম্পন্ন করা প্রয়োজন যত্নের সঙ্গে। যাচ্ছেতাইয়ে একদম বারণ!
ওভারলে ট্রিকস
লেয়ারিং আইটেমের ক্ষেত্রে নকশা নিয়ে সবার আগে ভাবলে ভালো। এমন একটি ডিজাইন পছন্দ করে নেওয়া যেতে পারে, যা স্ট্রাকচারড কিন্তু ভারী নয়। সে কেমন? এমন কিছু, যা সরল নকশায় তৈরি। অতিরঞ্জনে অভক্তি। ওপেন ফ্রন্ট কটন জ্যাকেট হতে পারে অপশন। এতে পোশাকে ডাইমেনশন ও মুভমেন্ট যোগ হবে। বাতাস চলাচল করতে পারবে। কেপ স্টাইল ওভারলে, স্লিভলেস ওয়েস্ট কোটে ওভার লে করলে হাতের ওপরের অংশ ও কাঁধ থাকবে মুক্ত।
লেয়ারিং মানেই অতিরিক্ত জামা পরে নেওয়া নয়। এর মানে স্টাইলিংয়ে নতুন একটি লেয়ারের সংযোজন। ভিজ্যুয়াল ডেপথের ভূমিকাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
রং তামাশা
রং বাছাইয়ে পদার্থবিদ্যার সূত্রে ভরসা রাখলে আরাম পাওয়া যাবে বেশি। এমন রং বেছে নেওয়া যেতে পারে, যা সূর্যের আলো কাছে টেনে না নিয়ে দূরে পাঠায়। অর্থাৎ প্রতিফলনে সক্ষম। লাইট শেডের হাজার রকম রং থেকে যেকোনোটা বেছে নিলেই সই; যেমন আইভরি, অফ হোয়াইট, বেইজ, সফট প্যাস্টেল। প্রকৃতি থেকে পাওয়া রং অলিভ, ক্লে, স্যান্ডও চলবে। লেয়ারিংয়ে দুটি সম্পূর্ণ আলাদা রঙের বদলে একই রঙের লাইট ও ডিপ শেডে রাখা যেতে পারে আস্থা। তাতে তৈরি হতে পারে লিরিক্যাল লুক।
প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ
লেয়ারিং নিয়ে বেশ মনোযোগী আমাদের লোকাল ফ্যাশন। কখনো সেট করে, কখনোবা একদম আলাদা পিস হিসেবে ডিজাইন করেছে বিভিন্ন পোশাক। ব্র্যান্ড ঘুরে দেখলে তা পাওয়া যাবেই। আর নিজে পেয়ারআপের দায়িত্ব নিতে চাইলে একটি সুতির কামিজকে বেইস হিসেবে পরে, তার ওপর নেটের ওভার লে করা যেতে পারে। শ্রাগ, কোট—দুই-ই সই। অফিস ওয়্যার হিসেবে বেশ মানাবে। লং শার্টের সঙ্গে বেইস হিসেবে জুটি বাঁধতে পারে স্লিভ লেস ট্যাং টপ। সুতি শাড়ির সঙ্গে মেলবন্ধনে থাকতে পারে কেপ স্টাইল ব্লাউজ। মডার্ন লেয়ার অ্যাসথেটিক হিসেবে চলবে বেশ।
স্টাইল স্টেটমেন্ট
বাংলাদেশের আবহাওয়ায় আরামদায়কতার সঙ্গে ব্রিদেবল ফ্যাব্রিক ও ডিজাইন—দুয়েরই সন্ধি প্রয়োজন। খুব ভালো ফ্যাব্রিকে যেকোনো ডিজাইন করে নিলেই চলবে না; আবার দারুণ ফাংশনাল ডিজাইনে যেকোনো ফ্যাব্রিকও বেছে নেওয়া মানা। ফ্রন্ট ওপেন লেয়ারিংয়ের আরেকটি সুবিধাও রয়েছে। ইনডোর আর আউটডোরের টেম্পারেচারের তারতম্যে যে অস্বস্তি তৈরি হয়, তা মিটিয়ে নেওয়া সম্ভব। বাইরে তাপমাত্রা যখন পারদকে ঠেলে নিতে চাচ্ছে ওপরের দিকে, তখন অনেক অফিসের অন্দরেই আবার শীতলতার স্পর্শ। তাপানুকূল কক্ষ এখন আর বিলাসিতা নয়; বেশির ভাগ কর্মক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সমাধান। তাপানুকূল রুমে মানিয়ে নিতে ফ্রন্ট ওপেন লেয়ারিং সিস্টেম দিতে পারে সমাধান। এর স্টাইলিং আইডিয়া জানা যায় মডেস্ট ফ্যাশন ব্র্যান্ড তাহুরের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও হানিয়াম মারিয়া চৌধুরীর বয়ানে। তিনি বলেন, ‘ফেব্রুয়ারিতে তাপমাত্রা খানিকটা কম থাকে। এ সময়কে বলা যেতে পারে কোল্ড স্প্রিং। তিন লেয়ারে সম্পন্ন করা যেতে পারে লেয়ারিং। প্রথমে স্কিন হাগিং গেঞ্জি, ইনারে কামিজ এবং লেয়ারে শ্রাগ। আর বটমে পালাজো। এমন হতে পারে ওয়্যারড্রোব প্ল্যানিং। কেউ হেড ওয়্যার পরতে চাইলে পোশাক নয়, স্কিন টোনের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া চাই রং। কারণ, হিজাব মূলত একটি অ্যাকসেসরি হিসেবে ড্রেসকে কমপ্লিমেন্ট করে। তাই ত্বকের সঙ্গে কেমন মানিয়েছে, তা ভাবার বিষয় বটে।’
সারাহ্ দীনা
মডেল: অদিতি ও ফাইজা
মেকওভার: পারসোনা
ওয়্যারড্রোব: তাহুর
ছবি: জিয়া উদ্দীন
