বহুরূপী I ক্রসোঁ কাব্য
ক্রসোঁকে খাবার না বলে বরং একখণ্ড সংস্কৃতি বললে বোধ হয় ভুল হবে না! ফরাসি বেকারির কাচের শোকেসে রাখা সোনালি, পাতলা স্তরের এই পেস্ট্রি যেমন চোখ জুড়ায়, তেমনি পৃথিবীর নানা দেশে পা রেখে বদলে ফেলে নিজের চরিত্র। মূল রেসিপি এক হলেও দেশভেদে স্বাদ, গঠন ও পরিবেশনায় হয়ে ওঠে ভিন্ন ভিন্ন গল্পে, ভিন্ন ভিন্ন নায়ক।
ফ্রান্সে ক্রসোঁ সবচেয়ে মৌলিক রূপে বিরাজমান; কেননা এর জন্মই সেই ভূখণ্ডে। সেখানে এটি সাধারণত বাটার ক্রসোঁ বা ক্রসোঁ বুর নামে পরিচিত। মাখনের ঘ্রাণ, পাতলা লেয়ার আর হালকা খসখসে টেক্সচার—এই তিনের সমন্বয়ই ফরাসি ক্রসোঁর আত্মা। ফরাসিদের কাছে সকালের কফি বা হট চকলেটের সঙ্গে সাধারণ ক্রসোঁ পছন্দ; কোনো ক্রিমি ফিলিংকে বাড়াবাড়ি গণ্য করা হয়।
ইতালিতে পা রাখলেই, ক্রসোঁ নতুন নাম পায়—কর্নেত্তো। ফরাসি ক্রসোঁর তুলনায় এটি একটু বেশি নরম আর মিষ্টি। ইতালীয় ক্রসোঁর পুরে থাকে ভ্যানিলা ক্রিম, অ্যাপ্রিকট জ্যাম বা নিউটেলা। ইতালিয়ানদের সকালের নাশতায় কর্নেত্তোরূপী ক্রসোঁ আর কড়া এসপ্রেসো, ব্যস! এক অবিচ্ছেদ্য যুগল যেন এই দুই খাদ্যপদ।
স্পেনে খাবারটি পরিচিত ক্রোসান নামে। তবে এখানে জনপ্রিয় ক্রোসান হচ্ছে চকলেটে ভরা ধরনটি। হালকা চকো সিরাপে ডুবিয়ে নেওয়ায় বাইরের স্তর খানিকটা চকচকে ও মিষ্টি হয়ে ওঠে। স্প্যানিশ স্বাদের এই অতিরিক্ত মিষ্টির আস্তর, স্পেনে গিয়ে ক্রসোঁকে দিয়েছে ডেজার্টের মর্যাদা।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রসোঁ পেয়েছে অন্য মাত্রার এক নতুন পরিচয় এবং নতুন সুগন্ধ। দুবাই কিংবা লেবাননের বেকারিতে হরহামেশা দেখা যায় পেস্তা, খেজুর ভরা কিংবা রোজফ্লেভারড ক্রসোঁ। সেই তল্লাটে ইউরোপীয় ক্রসোঁর সঙ্গে আরব ঐতিহ্যবাহী উপাদানের এক চমৎকার মেলবন্ধন ঘটেছে।
অন্যদিকে, এশিয়ায় ক্রসোঁর রূপান্তর দেখে প্রথম দিকে তো ইউরোপীয়দের চোখ ছানাবড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছিল! জাপানে মাংসের টুকরো, রেড বিন পেস্ট ভরা এ খাবার পাওয়া যায়। এদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ায় আবার জনপ্রিয় ক্রসোঁ কিউব। ডায়মন্ড শেপের, ভেতরে চিজ বা কাস্টার্ডে ভরপুর।
বাংলাদেশ ও ভারতে খাবারটি ধীরে ধীরে স্থানীয় স্বাদের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। আমাদের দেশে রীতিমতো চিকেন কিমা, মসলা কিংবা চকলেটে ভরপুর ক্রসোঁও পাওয়া যায়। নাশতার টেবিলে চায়ের সঙ্গে ক্রসোঁর এই সংস্করণগুলো দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ঢাকার ক্যাফেগুলোতে।
ফুড ডেস্ক
ছবি: ইন্টারনেট
