skip to Main Content

ইভেন্ট I প্রতিকূলতার পাহাড় ডিঙিয়ে চলচ্চিত্র উৎসব

ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। দেশের মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট আয়োজন। এর সদ্য সমাপ্ত আসরের ওপর আলোকপাত করেছেন লেখক, সম্পাদক ও চলচ্চিত্র সমালোচক বিধান রিবেরু

প্রতিকূলের বিপরীতে বিপুল শক্তি ব্যয় করে ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (ডিফ) পৌঁছেছে কাঙ্ক্ষিত তীরে। অর্থাৎ নয় দিনের আয়োজন শেষ করেছে সফলভাবে। ২০২৬ সালে উৎসবটি করা যাবে কি না শেষ পর্যন্ত, তা নিয়ে ছিল অনিশ্চয়তা ও শঙ্কা। ঘুরতে ঘুরতে জুতোর সুকতলা ক্ষয় হয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু সরকারি অনুমোদন পাওয়া যাচ্ছিল না। অনুমোদন হয়ে উঠেছিল সোনার হরিণ পাওয়ার মতো ব্যাপার। যাক, শেষ অবধি, তপোবনে চলচ্চিত্রের সুবাতাস প্রবাহিত হয়েছে এবং তা গ্রহণ করে উজ্জীবিত হয়েছেন চলচ্চিত্র দর্শক ও সংশ্লিষ্টরা।
৯১টি দেশের মোট ২৪৫টি ছবি প্রদর্শিত হয়েছে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, সুফিয়া কামাল মিলনায়তন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দো ঢাকা, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি ছাড়াও এবার চলচ্চিত্র দেখানো হয়েছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্টে। সেখানে শত শত মানুষ টানা নয় দিন উপভোগ করেছেন বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র।
৩৪ বছর ধরে চলা এই উৎসবে আমি প্রতিবারই একাধিক দায়িত্ব পালন করি। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। ওয়াইড অ্যাঙ্গেল বিভাগে বিচারকের দায়িত্বে ছিলাম। আমার সহ-বিচারক ছিলেন ইউক্রেনের নির্মাতা পলিনা পিদুবনা। বয়সে খুবই ছোট, মাত্র স্নাতকোত্তর করছেন। কিন্তু এরই মধ্যে তিনি অর্জন করেছেন কান চলচ্চিত্র উৎসবের গৌরব। অর্থাৎ কানে শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি বিভাগ সিনেফে তার স্বল্পদৈর্ঘ্য ‘মাই গ্র্যান্ড মাদার ইজ আ স্কাইডাইভার’ ছবিটি ২০২৫ সালে অফিশিয়ালি সিলেক্টেড এবং দেখানো হয়। এই ছবি নিয়েই তিনি এসেছেন ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে, যা দেখানো হয় স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে। ব্যাপক সাড়া পেয়ে পলিনা উৎফুল্ল হন। তো, আমরা দুজনে ওয়াইড অ্যাঙ্গেল সেকশনের চারটি ছবি দেখেছি এবং কোনো সন্দেহ ছাড়াই বেছে নিয়েছি এই বিভাগের সেরা ছবিকে। ছবিটি হলো এস্তোনিয়া, জার্মানি ও লাটভিয়া প্রযোজিত এবং লিনা ট্রিসকিনা ভ্যানহাতালো পরিচালিত ‘এমালভি’ (লায়নেস, ২০২৪)।
লায়নেস বা সিংহীর মতোই এক চরিত্রের দেখা মেলে, নাম হেলেনা। ৪৮ বছর বয়সী মা, মেয়ে স্টেফির বয়স ১৫, আর বছর দশেকের একটি ছেলে। পারিপার্শ্বিক চাপ আর কিছুটা মা-বাবার প্রতি অভিমানে বখে যায় স্টেফি। খারাপ সঙ্গ তাকে নিয়ে যায় মাদক ও অপরাধী চক্রের পাতালপুরীতে। বুঝে ওঠার আগেই স্টেফি ফাঁদে পা দেয় এবং সেটি নিয়ে তারই বন্ধুরা তাকে ব্ল্যাকমেল করতে থাকে। হেলেনা মেয়েকে বাঁচানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। কিন্তু তত দিনে স্টেফি মাদকাসক্ত এবং তার নগ্ন ছবি বাজে চক্রের হাতে। আত্মহত্যা করতে চায় স্টেফি। তাকে কোনোরকমে রক্ষা করে হাসপাতালে ভর্তি করায় হেলেনা। বেপরোয়া সিংহীর মতো সে বিপৎসংকুল পরিবেশ থেকে ছিনিয়ে, স্টেফিকে নিয়ে চলে যায় গ্রামের বাড়ি। সেখানে তাকে সবার চোখের আড়ালে রাখে। কেউ জানে না স্টেফি কোথায়। তাকে সুস্থ করে তুলতে থাকে হেলেনা। শেষে যখন স্টেফির বাবার কাছে স্বীকার করে, স্টেফিকে সে লুকিয়ে রেখেছে, তখন তারা একসঙ্গে যায় স্টেফিকে মুক্ত করতে। কিন্তু তারা গিয়ে দেখে, স্টেফি নেই। নেই মানে আসলে স্টেফি দুনিয়াতেই নেই। গ্রামের বাড়িতে নিয়ে এসে নিরাপদে রাখার পুরো ঘটনাটি মা হেলেনা করেছে মানসিক ভ্রমের ভেতর। সে ভেবেছে, মেয়ে তার সঙ্গেই আছে। কিন্তু হাসপাতালেই মৃত্যু ঘটে স্টেফির। চমৎকার সাইকোলজিক্যাল ড্রামাটির ক্যামেরা ও আলোর কাজ প্রশংসা করার মতো।
ওয়াইড অ্যাঙ্গেলের অন্য তিনটি ছবিও মন্দ নয়। একটি চীনের ছবি, ঝ্যাং চি পরিচালিত ‘হাও হাও শুয়ো জাই জিয়ান’ (দ্য শোর অব লাইফ, ২০২৫)। তরুণী নুয়ো অনিরাময়যোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ও মৃত্যুপথযাত্রী। তার পাঁচ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। সিঙ্গেল মাদার। অনেকটা বাধ্য হয়ে সে ফিরে যায় বাবার সংসারে। সেখানে মাতৃবিয়োগের পর বাবা একা একাই দিনাতিপাত করছিল। কিন্তু মেয়ের হঠাৎ ফিরে আসায় জীবনে নতুন মোড় আসে বাবার। সে একপর্যায়ে জানতে পারে, মেয়ে মৃত্যুপথযাত্রী এবং নাতনিকে তাকেই বড় করে তুলতে হবে। মৃত্যু নিশ্চিত জানার পর নুয়োকে নেওয়া হয় প্যালিয়েটিভ কেয়ার বা প্রশমনমূলক সেবার আওতায়। সেখানে সে জীবনের শেষ মুহূর্তগুলো আনন্দে বাঁচার চেষ্টা করে। ১০২ মিনিটের ছবিটি এমনিতে ভালো; কিন্তু ৯০ মিনিটের হলে আরও ভালো হতো বলে মনে হয়েছে।
আরেকটি ছবি, মালয়েশিয়ার, ‘এয়ার মাতা দি কুয়ালালামপুর’ (টিয়ার্স ইন কুয়ালালামপুর, ২০২৫) ৯৫ মিনিটের। কিন্তু দেড় ঘণ্টার হলেও ছবিটি যথেষ্ট ধীরগতির, ৯৫ মিনিটকেই মনে হচ্ছিল ১২০ মিনিট। ছবির গল্পটি বেশ আগ্রহব্যঞ্জক; কিন্তু প্লট বিন্যাস ও ট্রিটমেন্টে মনে হয়েছে, এটি স্লো সিনেমা নয়, লেজি সিনেমা। পরিচালক রিদওয়ান সাইদি ছবিটির ভেতর পরাবাস্তবতার ছোঁয়া আনতে চেয়েছেন। মধ্যবয়সী এক নারী জে’র স্বামী হঠাৎ নিখোঁজ হয়। স্বামীটির ঘুমের ভেতর হাঁটার অভ্যেস রয়েছে। সেই নিখোঁজ স্বামীর দেখা পায় আলোকচিত্রী, তার নামও জে। কিন্তু সেখানেও রহস্য ঘনীভূত হয়ে ওঠে। এই দুই জে’র দেখা হয়। গল্পটা মন্দ নয়; তবে গোটা নির্মাণে কাঁচা ভাব রয়েছে। এই বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেছি বাংলাদেশে আসা ছবিটির প্রযোজক চের কিয়ান তানের সঙ্গে। তিনি বলেছেন, আমার প্রতিক্রিয়া পৌঁছে দেবেন পরিচালকের কাছে।
মালয়েশিয়ার ছবিটির তুলনায় বরং নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, জার্মানির পলিটিক্যাল স্যাটায়ার ‘ফ্যাবুলা’ অনেক ভালো কাজ। ছবিটি পরিচালনা করেছেন মাইকেল টেন হর্ন। জোস ও তার মেয়েজামাই ওজগুর জড়িয়ে পড়ে একটি অপরাধী চক্রের সঙ্গে। এরপর একে একে ঘটনা ঘটতে থাকে। এর ভেতরেই পরিচালক ইউরোপে চরমপন্থী ও অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে কটাক্ষ করতে থাকেন। ‘ফ্যাবুলা’ আমার করা তালিকায় ছিল দ্বিতীয় স্থানে।
২০২৫ সালের সাংহাই ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের একটি বিভাগ রোড অ্যান্ড বেল্ট; সেই বিভাগকেই এবার ডিফে স্থান দেওয়া হয়েছে ওয়াইড অ্যাঙ্গেলে। সাংহাইতে ফেস্টিভ্যালের ওই বিভাগে মোট সাতটি ছবি ছিল; কিন্তু ফেস্টিভ্যালের কোনো ভেন্যুতে ডিসিপি প্রজেকশন না থাকায়, তিনটি ছবি আর আসেনি। বাকি চারটি ছবি দেখেই আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। আফসোস, এখন পর্যন্ত আমরা একটি ফিল্ম সেন্টার করতে পারিনি। সেটা হলে ডিসিপি প্রজেকশন ছাড়াও থাকত দর্শকের জন্য একটি ঠিকঠাক স্ক্রিনিং হল।
যাহোক, ওয়াইড অ্যাঙ্গেল ছাড়াও বাংলাদেশের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি দেখেছি, ‘মরিয়ম’। চৈতালী সমাদ্দার পরিচালিত এই ছবিতে ধর্ষণের পর এক গ্রামীণ কিশোরীর পরিবারে কোন ধরনের বিপর্যয় নেমে আসে, সেই মর্মন্তুদ কাহিনি বিধৃত হয়েছে। কিশোরীর মায়ের চরিত্রে চমৎকার অভিনয় করেছেন বৈশাখী সমাদ্দার। ধর্ষকের প্রতি যে ঘৃণা তিনি চোখে ধারণ করেছেন, তা দর্শকের মনে থাকবে অনেক দিন।
এসব ছবি ছাড়াও আরও কিছু প্রামাণ্যচিত্র ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দেখা হয়েছে এই উৎসবে। তবে ইচ্ছা থাকলেও অনেক ছবি দেখা হয়ে ওঠেনি। যেহেতু মাস্টারক্লাসটিও আমার তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৭ জানুয়ারি সারা দিন ধরে মাস্টারক্লাস করিয়েছেন ক্রোয়েশিয়ার নির্মাতা ও সম্পাদক আলেকসান্দ্রা মারকোভিচ। তিনি প্রামাণ্যচিত্র সম্পাদনারীতি নিয়ে কথা বলেন। এরপর মাস্টারক্লাসে কথা বলেন বাংলাদেশের প্রোডাকশন ডিজাইনার লিটন কর। চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রোডাকশন ডিজাইন, আর্ট ডিরেকশন, প্রপস বাছাই, পোশাক পরিকল্পনা ইত্যাদি কতটা জরুরি, তা নিয়ে বিস্তারিত আলাপ করেন। শেষ ভাগে কথা বলেন সুইজারল্যান্ডের চলচ্চিত্র সমালোচক ও সিনেবুলেটিনের এডিটর-ইন-চিফ তেরেসা ভিনা। তিনি বর্তমান সময়ে চলচ্চিত্র সমালোচনার চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে কথা বলেন। প্রত্যেকের সঙ্গেই প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণকারীরা ছিলেন সপ্রতিভ।
মাস্টারক্লাসের পরের দিন ছিল সমাপনী। এদিন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর প্রধান অতিথি হিসেবে আসার কথা থাকলেও তিনি আসতে পারেননি। তাই তাকে ছাড়াই ঘোষিত হয় পুরস্কার। কে কে পুরস্কার পেল, এবার তা একটু দেখে নেওয়া যাক।
২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতে নেয় এশিয়ান ফিল্ম কম্পিটিশন বিভাগে থাকা কিরগিজস্তানের সিনেমা ‘কুরাক’। ২০২৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে কিম জিসুকসহ দুটি পুরস্কার জয় করে এই ছবি।
আজারবাইজানের ‘আ লোনলি পারসন্স মনোলগ’ সিনেমার জন্য সেরা পরিচালকের পুরস্কার পেয়েছেন এমিন আফানডিয়েভ। তাজিকিস্তান ও ইরানের যৌথ প্রযোজনার সিনেমা ‘ফিশ অন দ্য হুকে’র জন্য স্পেশাল ম্যানশন অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ইসফনডিয়র ঘুলোমভ। কিরগিজস্তানের আরেকটি সিনেমা ‘বার্নিং’য়ের জন্য সেরা চিত্রনাট্যের পুরস্কার পেয়েছেন দস্তান মাডেলিয়েভ ও আইজাদা বেকবালেয়েভা। সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন ইয়েরলান টুলেতি (অ্যাবেল), সেরা অভিনেত্রী ফারিবা নাদেরি (দ্য হাজব্যান্ড)।
বাংলাদেশ প্যানোরামা ট্যালেন্ট বিভাগে তিনটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের সিনেমাকে পুরস্কৃত করা হয়। দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছে আবির ফেরদৌসের ‘ইশপাইট’, প্রথম রানারআপ উমিদ আশরাফের ‘ধ্যাৎ’। ফিপ্রেসি বাংলাদেশ-ইফক্যাবের বিবেচনায় এই বিভাগে সেরা সিনেমার পুরস্কার পেয়েছে তানহা তাবাসসুমের ‘হোয়াট ইফ’। এ ছাড়া বাংলাদেশ প্যানোরামা বিভাগে সেরা সিনেমার পুরস্কার পেয়েছে গণরুম আর ছাত্ররাজনীতির গল্প নিয়ে নির্মিত ‘ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’। ছবিটি পরিচালনা করেছেন আকাশ হক।
এবারের উৎসবে অডিয়েন্স অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ প্রযোজনা এবং শেখ আল মামুন পরিচালিত সিনেমা ‘ড্রেইন্ড বাই ড্রিমস’। অডিয়েন্স অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে চীনের সিনেমা ‘অল কোয়াইট অ্যাট সানরাইজ’। শিশু চলচ্চিত্র বিভাগে বাদল রহমান পুরস্কার জিতেছে চীনের সিনেমা ‘কুইটং অ্যান্ড কুইহুয়া’। ওয়াইড অ্যাঙ্গেল বিভাগে সেরার পুরস্কার পাওয়া এস্তোনিয়া, জার্মানি ও লাটভিয়ার যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘লায়নেস’-এর কথা তো আগেই বলেছি।
উইমেন ফিল্মমেকার বিভাগে স্পেশাল মেনশন পুরস্কার পেয়েছে ফিলিপাইনের সিনেমা ‘বিনিথ দ্য ব্রিজ’। এই বিভাগে সেরা নির্মাতার পুরস্কার জিতেছেন কিরগিজস্তানের ‘আইজাদা বেকবালেভা’ (দ্য সেভেন মান্থ)। সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমার পুরস্কার জিতেছে জার্মানি, পর্তুগাল ও রোমানিয়ার যৌথ প্রযোজনার ‘লিটল সিরিয়া’। বেস্ট ফিকশন ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড জিতেছে রাশিয়ার ‘ফ্রম স্ক্র্যাচ’।
স্পিরিচুয়াল ফিল্ম সেকশনে স্পেশাল ম্যানশন অ্যাওয়ার্ড জিতেছে কাতারের সিনেমা ‘আই লে ফর ইউ টু স্লিপ’। সেরা তথ্যচিত্রের পুরস্কার পেয়েছে ইতালি, লাওস ও স্পেনের যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘দ্য গার্ডিয়ান অব স্টোরিস’। বেস্ট ফিকশন ফিল্মের পুরস্কার পেয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার ‘আ ভাস্ট অ্যালগরিদম অব হিউম্যানিটি: দ্য মুভি’।
উৎসবে পুরস্কার পাওয়া এসব ছবি ছাড়াও যেগুলো প্রদর্শিত হয়েছে, সেগুলো দেখতে প্রতি বেলাতেই সিনেমাপ্রেমীরা এসেছেন, খোঁজখবর নিয়েছেন, সময়সূচি সংগ্রহ করেছেন। বিকেলের শোগুলোতে মানুষ এসেছেন সপরিবার, সবান্ধব। এটা ঠিক, বাংলাদেশে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কিছুদিন পরই। এই পরিস্থিতির ভেতরেও যে মানুষ চলচ্চিত্রের জন্য সময় বের করতে পেরেছেন, যানজট ডিঙিয়ে ও সময়ের তোয়াক্কা না করে চলে এসেছেন, সেটি চলচ্চিত্রের প্রতি তাদের ভালোবাসাকেই প্রকাশ করে। আর দর্শক ও চলচ্চিত্র কারখানার মানুষদের এই ভালোবাসার জোরেই আগামী দিনগুলোতেও রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদ উৎসবের আয়োজন করে যাবে। যত বাধাবিপত্তিই আসুক, যত প্রতিকূলতাই সৃষ্টি করা হোক না কেন, চলচ্চিত্রের প্রতি মানুষের ভালোবাসাই এই উৎসব টিকিয়ে রাখবে। স্বপ্ন দেখাবে এবং স্বপ্ন পূরণ করবে তরুণ নির্মাতাদের।

ছবি: সংগ্রহ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back To Top