skip to Main Content

সঙ্গানুষঙ্গ I অভিসার অনুরণন

ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে দেখা মানেই বিশেষ কিছু। সেটি যদি হয় মায়াময় বসন্ত দিনে, তাহলে তো কথাই নেই! সঙ্গ আর অনুষঙ্গ—দুই-ই ভাবায়

প্রেমে বুঁদ মানুষ নিজেকে সাজাতে ভালোবাসেন। প্রিয় মানুষের চোখে কেমন লাগবে, তা ভেবে আয়নায় অপলক তাকিয়ে থাকাও অস্বাভাবিক নয়। হোক জেনারেশন এক্স অথবা জেনারেশন জেড—প্রেম সবার জন্য সর্বগ্রাসী! সে যুগেও, এ যুগেও। তাই পোশাক পরিকল্পনা থেকে অনুষঙ্গ নির্বাচন—সবখানেই ডেট রেডির প্রয়াস। প্রিয় মানুষটির সামনে নিজের সেরাটা তুলে ধরার উদ্দেশ্যে সাজ। পা থেকে মাথা অবধি তৈরি শতভাগ। অনুষঙ্গ সেখানে দারুণ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, পরিকল্পনার পূর্ণতায় আপোস নয়। এ ক্ষেত্রে স্থান-কাল গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করলে সহজ হবে সিদ্ধান্ত। সূর্যের আলোতে দেখা হলে অনুষঙ্গ মিনিমাল আর সন্ধ্যা থেকে রাত অবধি ম্যাক্সিমালিজম থাকতে পারে শতভাগ, এটাই বেসিক। আর যাদের সারা দিনের পরিকল্পনা সম্ভব নয়; আছে ক্লাস কিংবা অফিস, তারা নাইন টু নাইন মেথডে করতে পারেন পরিকল্পনা। সারা দিনের আউটফিটে দিন শেষে যুক্ত হতে পারে বিশেষ কিছু; যা স্টাইল লিফট আপে পাওয়ার গেম প্লে করতে উপযুক্ত।
জুতা কাহিনি
সিন্ডারেলার কাচের জুতার মতো না হলেও নকশা হতে পারে আকর্ষণীয়। ঝলমলে রঙিন এক পাটি হিল জুতাই বদলে দিতে পারে পুরো সাজ। পেনসিল, ব্লক, স্ট্র্যাপি বা স্টিলেটো বেশ মানাতে পারে সন্ধ্যার কফি বা ক্যান্ডেল লাইট ডিনার ডেটে। কিন্তু পছন্দের মানুষের সঙ্গে পার্কে বা রাস্তায় হাঁটার পরিকল্পনা থাকলে স্টাইলিশ হিল জুতা পরে পায়ের বারোটা বাজানো যুক্তিযুক্ত নয়; বরং পরতে পারেন লোফার, পাম্প শু বা স্নিকার। ফ্ল্যাট স্যান্ডেলেও মিলবে আরাম। স্নিকারের পাশাপাশি বেছে নিতে পারেন কেডস, অক্সফোর্ড শু অথবা বুট। একদম নতুন জুতা না পরাই ভালো। পরলেও সঙ্গে রাখা যেতে পারে নরম মোজা অথবা প্যাডিং। এতে পায়ে ফোসকা পড়ার দুশ্চিন্তা কমবে। কারণ, প্রিয় মানুষের সঙ্গে এই হেঁটে যাওয়া হতে পারে দীর্ঘ। ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’ গানের উত্তম-সূচিত্রার মতো সীমাহীন পথ হাঁটার উপযোগী জুতা তাই আবশ্যক।
গয়না গল্প
ডেট মানে শুধু পোশাকে মনোযোগ নয়; লুকের আসল ফিনিশিং টাচ আসে সঠিক জুয়েলারি পিস থেকে। ক্যান্ডেল লাইট ডিনারে হালকা সূক্ষ্ম ঝলমলে গয়না সবচেয়ে মানানসই। ছোট হীরার বা জেমস্টোনের লকেট-চেইন, সঙ্গে কানের টপ বা ছোট দুল—এই কম্বিনেশন যেকোনো আউটফিটের সঙ্গে জুতসই। এক হাতে রাখা যেতে পারে একটি বা দুটি মিনিমাল ব্রেসলেট; অন্য হাতে ক্ল্যাসিক ঘড়ি। আঙুলে এক বা দুটি আংটি যথেষ্ট; বেশি প্রয়োজন নেই। ডেট লুক মানে এফোর্টলেস এলিগ্যান্স, তাই জমকালোতে মনোযোগ কম দেওয়া শ্রেয়। চাইলে শাড়ি নিয়ে একটু নিরীক্ষা করা যায়। হাতভর্তি চুড়ি বা দেশীয় জাঙ্ক জুয়েলারি মানাবে। মালা পরার আগে পোশাকের গলার কাট মাথায় রাখা জরুরি। ভি-নেক বা ইউ-নেকের সঙ্গে লকেট বা পেনডেন্ট ভালো মানায়; আর হাই-নেক বা ক্লোজড নেকলাইনে লেয়ারড নেকলেস যোগ করে স্টাইল ডাইমেনশন। গয়নার রং বাছাইয়েও থাকা চাই স্মার্ট প্ল্যান। পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে বা কনট্রাস্ট করে বেছে নেওয়া যেতে পারে গয়না। গোল্ড, সিলভার কিংবা রোজ গোল্ড। পুরুষদের জন্য ক্ল্যাসিক ঘড়ি, সঙ্গে চামড়া বা ধাতব ব্রেসলেটই যথেষ্ট স্টাইল স্টেটমেন্ট। কেউ চাইলে গলায় পাতলা চেইন বা আঙুলে একটি আংটি যোগ করতে পারেন।
ব্যাগ বার্তা
ডেটের জন্য ছোট ব্যাগ তুলনামূলক আরামদায়ক। লম্বা বেল্ট আর ক্রস বডি হলে তো কথাই নেই। হাত থাকে মুক্ত, চলাফেরাও সহজ। ডিনার বা কফি শপে অল্প সময়ের ডেটে খুব বেশি জিনিসপত্র সঙ্গে রাখা নিষ্প্রয়োজন। ছোট হ্যান্ডব্যাগ, ক্লাচ কিংবা পাউচ হতে পারে পারফেক্ট চয়েস। স্লিং ব্যাগ, বাকেট ব্যাগও জুতসই। তবে আফটার অফিস ডেট হলে বড় ব্যাগ ভরসা। টোটের পরে এই ধারায় উল্লেখযোগ্য একটি নাম স্লচ ব্যাগ। বড় আকারের এই ব্যাগে যেমন অনেক কিছু রাখা যায়, তেমনি দেখতে স্টাইলিশ। পুরুষদের জন্যও অপশন কম নয়। ব্যাকপ্যাক, কমপ্যাক্ট মেসেঞ্জার ব্যাগ, ক্রস বডি স্লিং কিংবা মিনিমালিস্ট ল্যাপটপ ব্যাগ—সবই মানাবে অফিস বা ক্লাস থেকে ডেটের ট্রানজিশনে। কালো, বাদামি কিংবা নেভির মতো গাঢ় নিরপেক্ষ রংগুলো সবচেয়ে নিরাপদ এবং এলিগ্যান্ট পছন্দ।
ডেট-রেডি হওয়া মানে অতিরিক্ত সাজ নয়; বরং সময়, জায়গা আর মুহূর্ত বুঝে স্মার্ট সিদ্ধান্ত। আরামদায়ক জুতা, সঠিক গয়না আর ব্যবহারিক ব্যাগ—এই তিনের সমন্বয়ে তৈরি হয় নিখুঁত ডেট লুক। পোশাকের সঙ্গে মানানসই অনুষঙ্গ বেছে নিলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে; আর শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্টাইল স্টেটমেন্ট।

 আবৃতি আহমেদ
মডেল: সিনথিয়া
মেকওভার: পারসোনা
ছবি: জিয়া উদ্দীন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back To Top